
US ADP Employment-এর দুর্বল তথ্য সত্ত্বেও US Dollar শক্তিশালী হয়েছে। FOMC Minutes-এর কড়া অবস্থান এবং Treasury Secretary Janet Yellen-এর মন্তব্য সুদের হার বেশি থাকার প্রত্যাশাকে সমর্থন করেছে। FOMC মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে, আর Yellen ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সুদের হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি এবং পানামা খালে চীনের ভূমিকা নিয়ে চ্যালেঞ্জসহ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতাকে আরও বাড়িয়েছে। এসব কারণে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলেও প্রধান মুদ্রা, শেয়ারবাজার ও অপরিশোধিত তেলের ওপর চাপ পড়েছে। তবে বাজারের অনিশ্চয়তা এবং চীন ও ভারত থেকে জোরালো চাহিদার কারণে সোনার দর স্থিতিশীল ছিল।
শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশ্র তথ্যের কারণে মনোভাব দুর্বল হওয়ায় EURUSD কমেছে। পূর্বনির্ধারিত সুদের হার কমানোর বিরোধিতা করে ECB নীতিনির্ধারক পিয়েরো চিপোলোনে পেয়ারটির দুর্বলতা আরও বাড়িয়েছেন। একইভাবে, যুক্তরাজ্যের দোকানপাটের দাম কমা এবং মূল্যস্ফীতির দুর্বল ইঙ্গিতে GBPUSD-ও নেমেছে। এতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বেড়েছে।
জাপানে মজুরি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস শক্তিশালী হওয়ায় USDJPY প্রবণতার বিপরীতে চলেছে। এতে ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের শক্তি এবং নেতিবাচক মনোভাব ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত AUDUSD পেয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার তথ্য ক্রেতাদের সমর্থন দিতে পারেনি, ফলে দর ডিসেম্বরের শেষ দিকে চিহ্নিত 27 মাসের সর্বনিম্নের দিকে নেমেছে। তবে, আগের মাসের তুলনায় বাড়লেও নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম বেড়েছে। বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নতি হয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য ছিল মিশ্র।
চীনের দুর্বল মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানও AUDUSD-কে বড় চাপে ফেলেছে, কারণ অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীন। ডিসেম্বরে চীনের CPI এপ্রিলে পর থেকে সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে। অন্যদিকে, PPI-তে টানা 27 মাস ধরে দরপতন অব্যাহত রয়েছে, যা অস্ট্রেলীয় ডলারের প্রতি বাজারের মনোভাব আরও দুর্বল করেছে।
চীনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক না থাকায় NZDUSD, AUDUSD-এর মতোই কমে 2022 সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
তেলের দাম কমা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংক অব কানাডার নমনীয় অবস্থানের কারণে USDCAD টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে। চীনের অর্থনৈতিক ধীরগতি, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের চাপে অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বেশি কমেছে।
চীনের দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর দিনের শুরুতে দরপতন হলেও, বাজারের অনিশ্চয়তা এবং চীন ও ভারত থেকে চাহিদার সমর্থনে সোনা সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।
অন্যদিকে, সাপ্তাহিক US মজুতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হ্রাস দেখা গেলেও অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন রেকর্ড করেছে। এতে শক্তিশালী US ডলার, চীনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং রাশিয়া ও OPEC থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার যৌক্তিকতা আরও জোরালো হয়েছে।



ETF-এ বিপুল অর্থপ্রবাহ এবং ট্রাম্পকে ঘিরে শিল্পখাতের আশাবাদকে উপেক্ষা করে, ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম টানা দুই দিন কমেছে এবং লেখার সময় সামান্য বিক্রির চাপে রয়েছে। এর ফলে, শুক্রবারের মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের প্রতি বাজারের কম আগ্রহও প্রতিফলিত হচ্ছে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দামে—বিশেষ করে FOMC-এর কঠোর নীতির ইঙ্গিতপূর্ণ কার্যবিবরণী প্রকাশের পর।
সামনে, Fed-এর পাঁচ কর্মকর্তার বক্তব্য বাজারের দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি এবং বিশ্বজুড়ে হালকা অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারের কারণে অস্থিরতা কম থাকতে পারে। মার্কিন ডলারের শক্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা EURUSD, GBPUSD এবং অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। BoJ-কে ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে USDJPY নিচের দিকে যেতে পারে। সোনা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ট্রেড করতে পারে, আর অপরিশোধিত তেলের ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে। ট্রাম্পের অভিষেকের আগে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শেয়ারের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!