
ট্রাম্পের গাড়ির ওপর শুল্ক ছাড় নিয়ে বাজারের আশাবাদ দ্রুত ম্লান হয়েছে। চীন, EU, UK ও জাপান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করেছে এবং আরও বিস্তৃত চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, US-Iran উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে যাওয়াকে ঘিরে প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা বাজারের মনোভাবকে আরও দুর্বল করছে। উল্লেখ্য, কানাডার লিবারেল পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক তথ্যের মিশ্র চিত্র এবং জাপানের ছুটির দিন—এসব কারণেও ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে US Dollar Index (DXY) সামান্য বেড়েছে, সপ্তাহের শুরুর দিকের কিছু পতন পুষিয়ে নিয়ে প্রধান কারেন্সি, কমোডিটি ও ক্রিপ্টোতে চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা, ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি সূচক, Q1 GDP এবং NFP-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ডেটার অপেক্ষায় থাকায় বাজার নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।
মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় EU-UK-এর বাণিজ্যিক ঐক্য এবং ECB-র ডোভিশ মন্তব্য EURUSD জুটির পুনরুদ্ধারে বাধা দিচ্ছে। এদিকে, ইউরো ট্রেডাররা ওয়াশিংটনের সঙ্গে শুল্ক সংঘাত এড়াতে জার্মানির প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করছেন।
এদিকে, জাপানে ছুটির কারণে লেনদেনের তারল্য কম থাকা, জীবনবিমা সংস্থাগুলোর JGB-এর ধারণ কমানোর খবর এবং জাপানের অর্থনীতিমন্ত্রীর কঠোর বাণিজ্যসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রভাবে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের পর USDJPY স্থিতিশীল হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের আশাবাদে সমর্থন পাওয়া যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে আশা এবং যুক্তরাজ্যের CBI খুচরা বিক্রির ইতিবাচক তথ্য আগের দিন GBPUSD-কে 2022 সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। তবে বাজারে সতর্কতা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে পাউন্ডের বুলিশ ট্রেডাররা বাধার মুখে পড়ছেন, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের সূচি হালকা থাকায়।
চীনের প্রণোদনার সম্ভাবনা কমে আসায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থানের মধ্যে AUDUSD 20 সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পিছিয়েছে। NZDUSD-ও 7 দিনের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর আবার দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে, Mark Carney-র লিবারেল পার্টি কানাডার সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও USDCAD টানা 3 দিনের দরপতনের ধারায় ইতি টেনেছে। সংখ্যালঘু সরকার গঠনের আশঙ্কা এবং তেলের দুর্বল দাম এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
সাপ্তাহিক ট্রেডিং রেঞ্জের মধ্যে সোনার দামে সামান্য পতন হয়েছে। মার্কিন ডলারের সংশোধনমূলক উত্থানের পাশাপাশি চীনের স্বর্ণের চাহিদা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। মাসের শেষের দর একীভূত হওয়ার প্রবণতা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ও ইভেন্টের আগে সতর্ক মনোভাবও XAUUSD-এর ওঠানামা সীমিত করতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা বাড়া, OPEC+-এর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে চাহিদা কমার উদ্বেগের মধ্যে WTI ক্রুড অয়েলের দর কমতে কমতে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নের দিকে যাচ্ছে।



এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানের পর Bitcoin (BTCUSD) কিছুটা লাভ হারিয়েছে। অস্থির বাজারে Ethereum (ETHUSD)-এর পুনরুদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। তবে শক্তিশালী US Dollar বাজারের মনোভাব পরীক্ষা করছে। তা সত্ত্বেও, ETF-এ রেকর্ড পরিমাণ অর্থপ্রবাহ এবং Trump-এর শিল্পখাতের নৈশভোজ সামনে রেখে আশাবাদ ক্রিপ্টো বাজারের মনোভাব ইতিবাচক রেখেছে।
জাপানের ছুটি এবং এশিয়ার হালকা অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারের কারণে দিনটি ধীরগতিতে শুরু হলেও, US, EU ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং রাজনৈতিক খবরে ব্যস্ত একটি দিন অপেক্ষা করছে। EU ও US-এর Consumer Confidence, US Housing Starts, JOLTS Job Openings এবং Trade Balance-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করবে। পাশাপাশি, কানাডার সাধারণ নির্বাচন এবং US-এর গাড়ি আমদানি শুল্ক নিয়ে চলমান আলোচনা বাজারের লিকুইডিটি বাড়াচ্ছে।
মার্কিন ডলারের দর ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রধান মুদ্রা, কমোডিটি ও শেয়ারবাজারের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, মাসের শেষের দিকের কনসোলিডেশন এবং বাজারের দোদুল্যমান মনোভাব Gold, JPY ও CHF-এর মতো নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত অ্যাসেটগুলোর দরপতন সীমিত করতে পারে। অন্যদিকে, শিল্পখাতের আশাবাদের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে মিশ্র লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সামগ্রিক বুলিশ প্রবণতা ধরে রাখতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!