
শুক্রবার দিনের শুরুতে বাজারের দিক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে, যদিও চীনের খুচরা বিক্রি ও GDP প্রবৃদ্ধির তথ্য ইতিবাচক ছিল। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি দুর্বল হওয়া এবং বেকারত্বের দাবি বেড়ে যাওয়ায় বাজারের মনোভাব মিশ্র রয়েছে। তবে Fed-এর কড়া মন্তব্য, বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথগ্রহণের আগে সতর্ক মনোভাব আশাবাদে ভাটা ফেলতে পারে, বিশেষত সামনে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের সূচি না থাকায়। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও মূল্যস্ফীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেছে। তবে 2025 ও 2026 সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস 2.7%-এ অপরিবর্তিত রেখেছে।
এই বাজারচলনের মধ্যে, টানা চার দিন দরপতনের পর US Dollar Index (DXY) সাপ্তাহিক সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। অন্যদিকে, গোল্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স লেভেলের কাছাকাছি রয়েছে এবং টানা তৃতীয় সপ্তাহে দরবৃদ্ধির পথে। দুর্বল মার্কিন ডলারের সুবিধা পাচ্ছে EURUSD ও GBPUSD; গতি সীমিত হলেও সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে তাদের। বিপরীতে, সাত সপ্তাহের মধ্যে USDJPY-এর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হতে পারে। AUDUSD ও NZDUSD শক্তিশালী রয়েছে, আর USDCAD আগের সপ্তাহের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। সবশেষে, আগের দিনের দরপতন সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে, অন্যদিকে শেয়ারের দর ধীরে ধীরে কমছে।
US-এর তথ্য ও সতর্ক মনোভাব US Dollar-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের দুর্বল অর্থনৈতিক সংকেতের কারণে EURUSD এবং GBPUSD তাদের লাভ ধরে রাখতে পারছে না। জার্মানিতে স্ট্যাগফ্লেশন, ইউরোজোনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ECB-র মিশ্র মন্তব্য EURUSD-এর পুনরুদ্ধারকে সীমিত করছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যের হতাশাজনক তথ্য এবং দেশটির নতুন সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় GBPUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, সাত সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের পথে USDJPY। জাপানের নতুন অর্থনৈতিক তথ্য ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। এ ছাড়া, ইয়েনকে সুরক্ষা দিতে জাপান সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন উদ্বেগও এই কারেন্সি পেয়ারটির ওপর আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
US ডলারের দুর্বলতা AUDUSD ও NZDUSD-কে শক্তিশালী থাকতে সাহায্য করছে, আর USDCAD-এর ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে পণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই মুদ্রাগুলো Greenback-এর বিপরীতে তাদের উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। চীনের সাম্প্রতিক শক্তিশালী তথ্য নিয়ে সন্দেহ এবং তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর পক্ষপাতী প্রত্যাশা এখন আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ $2,710-20 রেজিস্ট্যান্সের কাছাকাছি সোনার দামে বিরতি এসেছে, তবে টানা তৃতীয় সপ্তাহে লাভের পথে রয়েছে। সোমবার ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগে ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র ডেটা, দুর্বল ডলার, চীনের শক্তিশালী পরিসংখ্যান এবং ঝুঁকি-সংক্রান্ত মিশ্র খবরের দিকে নজর রাখছেন।



আগের দিন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরের পর মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম দুই মাসের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বেশি কমে যায়। তবে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং চীনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্য পরে অয়েলের দাম ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। ফলে, সপ্তাহ শেষে দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, আগের দিনের লাভ কিছুটা কমলেও Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর সাপ্তাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর ক্রিপ্টোকারেন্সিকে “জাতীয় অগ্রাধিকার” নীতি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রবণতা সেই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর, সোমবারের মার্কিন ছুটি এবং ট্রাম্পের অভিষেকের আগে আর্থিক বাজারে লেনদেনের গতি কম থাকতে পারে। অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তথ্য কম থাকায় বাজারের গতি সীমিত হতে পারে, যদিও ট্রেডাররা ইউরোজোনের সংশোধিত মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও শিল্প উৎপাদনের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিতে পারেন। মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা কম, যা সোনাকে গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স ভাঙতে সহায়তা করতে পারে। এদিকে, প্রধান মুদ্রা ও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলো তাদের সাপ্তাহিক প্রবণতা ধরে রাখতে পারে, আর ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইকুইটিতে গতি কম থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!