
শুক্রবারের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা এবং আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক থেকে পাওয়া ইতিবাচক গতি নতুন করে মূল্যায়ন করায় ট্রেডিংয়ে বাজারভাবনা দুর্বল হয়। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে জটিলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় আগের আশাবাদে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি সাম্প্রতিক স্থবিরতা সত্ত্বেও US Dollar Index (DXY) তিন সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র কর্মসংস্থান তথ্য ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ উপেক্ষা করে ডলারের স্থিতিস্থাপকতা দেখা যাচ্ছে।
ডলারের এই শক্তি প্রধান মুদ্রা, সোনা ও ক্রুড অয়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইতিবাচক রয়েছে এবং শেয়ারের দাম সামান্য বাড়ছে। তবে, পণ্যের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলারের মতো মুদ্রাগুলো সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও চাপে রয়েছে।
সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা সত্ত্বেও মার্কিন ডলারের শক্তি ইউরো (EUR), ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) এবং জাপানি ইয়েনের (JPY) ওপর চাপ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোজোনের শুল্ক এবং হোয়াইট হাউসের সমালোচনা EURUSD-তে আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।
Bank of England (BoE)-এর সুদের হার কমানোর পক্ষে ভোটে মতভেদ এবং যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য-ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব GBPUSD-এর আরও দরপতন ঠেকাতে সহায়তা করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য আলোচনা অচলাবস্থায় পড়া এবং জাপানের প্রকৃত মজুরি টানা তিন মাস কমে যাওয়ায় USDJPY বেড়েছে। তবে ফেডের সুদ কমানোর প্রত্যাশা বাড়ার মধ্যে ব্যাংক অব জাপানের কঠোর নীতিগত অবস্থান ইয়েনের দরপতনের সম্ভাবনা সীমিত করছে।
বাজারের সামগ্রিক মনোভাব কিছুটা শক্তিশালী হলেও, ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত অস্ট্রেলিয়ান (AUD), নিউজিল্যান্ডের (NZD) এবং কানাডিয়ান ডলার (CAD) যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নমনীয় নীতির কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে।
কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দাম ঘুরে দাঁড়ালেও USDCAD বিক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য তা যথেষ্ট হয়নি।
এর ফলে AUDUSD ও NZDUSD টানা তিন দিন ধরে দর হারাচ্ছে। USDCAD তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে, তবে কানাডার আসন্ন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আগে এর গতি দুর্বল।
সোনার দাম সামান্য বেড়ে প্রায় $3,330-এ পৌঁছেছে। এতে টানা দুই দিনের দরপতন থেমেছে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় সোনার দাম সমর্থন পাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ETF-এ কেনাকাটা বেড়ে যাওয়াতেও এর প্রমাণ মিলছে।
এদিকে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নিয়ে উদ্বেগ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট তেলের সরবরাহে বাধা তৈরি করছে, যা ক্রুড অয়েলের দামে পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করছে। তবে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং OPEC+-এর সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তেল কেনার আগ্রহ কমাচ্ছে।



বিস্তৃত বাজারের আশাবাদ এবং ক্রিপ্টো রিজার্ভে সঞ্চয় বাড়ার খবরের প্রভাবে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। BTCUSD 6%-এর বেশি বেড়ে আবার $100K-এর স্তর ফিরে পেয়েছে। অন্যদিকে, ETHUSD 20%-এর বেশি বেড়ে $2,300-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।
শুক্রবারের সূচিতে রয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর Bailey-র বক্তব্য, কানাডার কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং Fed-এর কর্মকর্তাদের বক্তব্য। তবে বাজারের মূল নজর থাকবে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির দিকে—যার মধ্যে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ।
Fed-এর নীতিতে নমনীয়তার ঝোঁক থাকলেও বাড়তে থাকা হতাশাবাদ মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করছে। ঝুঁকিসংক্রান্ত খবর পরিস্থিতি না বদলালে ডলার শক্তিশালী থাকতে পারে। ফলে স্বর্ণ, ক্রুড অয়েল এবং AUD, NZD ও CAD-এর মতো পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মুদ্রাগুলো চাপে পড়তে পারে। স্বর্ণের দাম $3,290-এর নিচে নামলে bearish গতি তৈরি হতে পারে। কানাডার দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশিত হলে USDCAD কয়েক দিনের সর্বোচ্চ স্তরে উঠতে পারে। এ ছাড়া, সপ্তাহান্তে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। ইতিবাচক কোনো খবর স্বর্ণের দাম বাড়াতে পারে, যদিও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এর ঊর্ধ্বমুখী সম্ভাবনায় চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!