
ওয়াল স্ট্রিটে শক্তিশালী লেনদেনের সমাপ্তি এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে অস্থির ট্রেডিংয়ের পর বুধবার দিনের শুরুতে বাজারে অনিশ্চয়তা ছিল। রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড (RBNZ) সুদের হার কমানোর পর NZDUSD ঘুরে দাঁড়ায়, তবে গভর্নর হকসবি hawkish সুরে বক্তব্য দেওয়ায় তা বিশেষ নজর কাড়ে। তবে পরে কিউইর উত্থান কিছুটা কমে যায়।
ট্রাম্পের EU শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন, প্রস্তাবিত করছাঁটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়া, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে থাকা এবং গাজায় উত্তেজনা বাড়ার কারণে ঝুঁকি নেওয়ার মনোভাব চাপে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেকসই পণ্যের অর্ডার ও ভোক্তা আস্থার শক্তিশালী ডেটার পর US Dollar Index (DXY)-এর দরবৃদ্ধি আরও বেড়েছে। এতে প্রধান মুদ্রা ও সোনার ওপর চাপ পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ডেটা প্রকাশের আগে, টানা দুই দিনের দরপতনের পর ক্রুড অয়েলের দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
FOMC-এর কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে সতর্কতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের প্রণোদনার ইঙ্গিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা। এদিকে, টানা তিন দিনের উত্থানের পর বিটকয়েন (BTCUSD) ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছে, আর ইথেরিয়াম (ETHUSD) পাঁচ দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো দরপতন হয়েছে। শেয়ারের দাম কিছুটা কমেছে এবং বন্ডের ইল্ড সামান্য বেড়েছে।
ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ECB) সতর্ক মন্তব্য, জার্মানির মিশ্র তথ্য-উপাত্ত এবং মার্কিন শুল্ক আরোপে বিলম্ব সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) দৃঢ় অবস্থানের প্রভাবে মার্কিন ডলার ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যা EURUSD-কে নিচের দিকে ঠেলছে। মাসিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জুটিটির পতন আরও বেড়েছে; টানা দ্বিতীয় দিনেও এটি কমেছে।
GBPUSD-ও 2022 সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে আস্থা কমছে এবং UK CBI-এর বিক্রয়-সংক্রান্ত ডেটা হতাশাজনক হওয়ায় পেয়ারটি গুরুত্বপূর্ণ 1.3450 স্তরের দিকে নেমে যাচ্ছে—যে স্তরটি আগে রেজিস্ট্যান্স ছিল, এখন সাপোর্টে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ এবং BoJ গভর্নর Ueda ও অর্থমন্ত্রী (FinMin) Kato-এর মিশ্র বার্তার কারণে USDJPY টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাও মাসিক সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে পেয়ারটির পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে।
বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে AUDUSD-এর দরপতন অব্যাহত রয়েছে; অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়া এবং চীনে জোরালো প্রণোদনার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও টানা তৃতীয় দিনের মতো দর কমেছে। এই পেয়ারটি মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার এবং বাজারের মিশ্র মনোভাবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে।
এদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম ঘুরে দাঁড়ানো এবং কানাডার নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদ—কোনোটিই আমলে না নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো USDCAD বেড়েছে। ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবিতে বাজারের মনোভাব আরও অনিশ্চিত হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন “Golden Dome” প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অঙ্গরাজ্য হিসেবে যোগ দিতে কানাডাকে $61 বিলিয়ন দিতে হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী কার্নির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের ইতিবাচক সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী RBNZ সুদের হার 0.25% কমিয়েছে। তবে গভর্নর হকসবির সতর্ক সুর এবং আরও হার কমানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের দ্বিধার ইঙ্গিত টানা দুই দিনের দরপতনের পর NZDUSD-কে স্থিতিশীল হতে সাহায্য করেছে। তা সত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ, ঘুরে দাঁড়ানো US Dollar এবং অকল্যান্ডের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জটিলতা—এসব কারণে Kiwi পেয়ারটির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।



বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ানোর ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন সংশয় এবং গাজা যুদ্ধের বিরতি দামে সমর্থন জোগানোয় ক্রুড অয়েলের টানা দুই দিনের দরপতন থেমেছে। পুতিন হয়তো যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন না—এমন আলোচনাতেও বাজার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। রাশিয়ার অর্থনীতি এখন প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এখন নজর যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক মজুতের তথ্যের দিকে।
এদিকে, FOMC-এর কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় ট্রেডাররা থাকায় সোনার দাম কমেছে। ইতিবাচক মার্কিন তথ্যের জেরে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির পর মার্কিন ও যুক্তরাজ্যের ট্রেডাররা বাজারে ফিরলে সোনার দামের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এছাড়া, $3,365–$3,370-এর রেজিস্ট্যান্স জোনের ওপরে উঠতে না পারাও সোনার দামের পতনে ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং টেকনিক্যাল রেজিস্ট্যান্সের কারণে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের দর বাড়তে পারছে না। খুচরা ট্রেডারদের জন্য বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেওয়া খাতসংশ্লিষ্ট খবরও এই চাপ বাড়িয়েছে। এর ফলে, টানা তিন দিনের লাভের ধারা থামার পর BTCUSD চাপে রয়েছে। আর ETHUSD পাঁচ দিনে প্রথমবারের মতো দর হারিয়ে সাড়ে তিন মাসের সর্বোচ্চ দামের কাছ থেকে নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ট্রেডাররা জোরালোভাবে ফিরলে, এখন নতুন ইঙ্গিতের জন্য নজর FOMC Minutes-এর দিকে। ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিলেও কঠোর অবস্থান না নিলে, US Dollar দুর্বল হতে পারে এবং প্রধান মুদ্রা, পণ্য, শেয়ার ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দর আবার বাড়তে পারে।
FOMC মিনিটসের পাশাপাশি, দিনের মধ্যে বাজারের দিকনির্দেশ পেতে ট্রেডাররা জার্মানি ও ভারতের মাঝারি গুরুত্বের তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড অয়েলের মজুতসংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর দিকে নজর রাখবেন।
সামগ্রিক বাজারের মনোভাব এখনও নাজুক। মার্কিন কর বিলের সম্ভাব্য প্রভাব, চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এগুলো সাম্প্রতিক আশাবাদ কমিয়ে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!