লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

BoJ-এর মিশ্র সংকেত ও সতর্ক বাজার মনোভাবের মধ্যে তিন দিনের পতনের পর USDJPY ঘুরে দাঁড়িয়েছে

BoJ-এর মিশ্র সংকেত ও সতর্ক বাজার মনোভাবের মধ্যে তিন দিনের পতনের পর USDJPY ঘুরে দাঁড়িয়েছে

ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে

US–China বাণিজ্য চুক্তি, ট্রাম্পের শুল্ক এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মিশ্র গতিপ্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ এখনও নড়বড়ে। অসঙ্গতিপূর্ণ মার্কিন ডেটা এবং ডেটানির্ভর সিদ্ধান্তে Fed-এর অনড় অবস্থানও ট্রেডারদের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। সুদের হার কমানোর জন্য রাজনৈতিক চাপ থাকলেও Fed তা প্রতিহত করছে।

জাপান ব্যাংকের বন্ড কেনা কমানোর পরিকল্পনা এবং হকিশ দৃষ্টিভঙ্গির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাপান অনুকূল মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উৎপাদন খাতের ডেটা পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের ISM ও S&P PMI কয়েক মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে, আর চীনের Caixin PMI-তে টানা আট মাসের সম্প্রসারণের ধারা শেষ হয়েছে। যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল পরিসংখ্যানও মার্কিন শুল্কের সঙ্গে সম্পর্কিত বৈশ্বিক ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোয় উত্তেজনা বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনাও বেড়েছে; দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তবে কিছু চীনা পণ্যের ওপর শুল্কছাড় 31 আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। 4 জুনের সময়সীমার আগে বৈশ্বিক বাণিজ্য আলোচনা এগোনোর লক্ষণও সতর্ক আশাবাদ জুগিয়েছে।

BoJ-এর নীতিগত টানাপোড়েনে জাপানি ইয়েনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। এদিকে, US Dollar Index (DXY) 3 সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোয় EURUSD ও GBPUSD চাপে পড়েছে, আর USDJPY ও USDCAD-এর দর বেড়েছে।

জোরালো র‍্যালির পর ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে, 3 সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সোনার দাম কিছুটা নেমেছে, আর Bitcoin-এর টানা 3 দিনের দরবৃদ্ধি থেমেছে। Ethereum-এর দামও বাড়তে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে, Wall Street-এর ইতিবাচক ক্লোজ এবং বন্ডের মিশ্র ইল্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শেয়ারবাজার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

EURUSD ও GBPUSD-এর সাপ্তাহিক লাভ কমেছে

ইউরোজোনের মে মাসের চূড়ান্ত ম্যানুফ্যাকচারিং PMI সংকোচনের পর্যায়ে থাকায়, এই সপ্তাহের আলোচনায় EU যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শুল্ক কমানোর দাবি জানাতে পারে। একইভাবে, যুক্তরাজ্যের PMI-গুলো 50.0-এর নিচে রয়েছে। অন্যদিকে, BoE-এর ক্যাথরিন মান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করেছেন এবং পরিমাণগত কঠোরকরণ (QT) ও সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে যুক্তরাজ্য ও ইইউর দুর্বল ডেটা, পাশাপাশি দুই দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় অবস্থান, EURUSD ও GBPUSD-তে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী ব্রেকআউটকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশ পেতে ট্রেডাররা এখন ইইউর গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতির ডেটা, ECB-তে Christine Lagarde-এর বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের JOLTS ও Factory Orders-এর দিকে নজর রাখছেন।

একাধিক কারণের প্রভাবে USDJPY ঘুরে দাঁড়ালেও, ঊর্ধ্বমুখী গতি জোরালো নয়

টানা 3 দিনের দরপতনের পর USDJPY ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে BoJ গভর্নরের উদ্বেগ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য আলোচনা থমকে যাওয়া এই জুটিকে সমর্থন দিয়েছে। বন্ড কেনা কমানো এবং সুদের হার বাড়ানো নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মতভেদ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে, জাপানের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য টেকসই মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে—যা BoJ-এর কঠোর নীতির অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এদিকে, মাসের শুরুর পজিশনিংয়ের সময় মার্কিন ডলারের সামান্য পুনরুদ্ধার এবং বাজারের মিশ্র মনোভাব এই জুটিকে সাম্প্রতিক দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলার পিছু হটল

চীনের দুর্বল PMI, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং স্থানীয় দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের চাপে মঙ্গলবারের এশিয়ান সেশনে অস্ট্রেলিয়ান ডলার, নিউজিল্যান্ড ডলার ও কানাডিয়ান ডলার সাম্প্রতিক লাভ হারিয়েছে।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানের পর AUDUSD-এর দর কমেছে। সতর্কতামূলক RBA মিনিটস এবং সহকারী গভর্নর হান্টারের মন্তব্য এতে চাপ তৈরি করেছে, যদিও মজুরি বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক মজুত এবং চীনের প্রণোদনা নিয়ে আশাবাদ থেকে সমর্থন রয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির পর অস্ট্রেলিয়ান ডলারের গতিপথ অনুসরণ করে NZDUSD-ও সাত মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে এসেছে।

ক্রুড অয়েলের দাম তিন সপ্তাহের সবচেয়ে জোরালো উত্থান থেকে কিছুটা কমে আসায় USDCAD ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং টানা 3 দিনের পতনের ধারার ইতি ঘটিয়েছে। কানাডার কার্যক্রম-সংক্রান্ত তথ্য ও Q2 GDP-তে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও PMI এখনও সংকোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা CAD-এর শক্তি সীমিত করছে।

ক্রুড অয়েল ও সোনার ক্রেতারা একটু বিরতি নিচ্ছেন

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন শুল্ক নিয়ে আশঙ্কায় সপ্তাহের শুরুতে জোরালো পারফরম্যান্সের পর মঙ্গলবারের শুরুর দিকে WTI ক্রুড অয়েল ও স্পট গোল্ডের দাম সামান্য কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপে এ দরপতন হয়েছে।

OPEC+-এর সরবরাহ পরিকল্পনা নিয়ে বাজারের সংশয় এবং আলাস্কায় খনন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে Trump-এর আগ্রহের খবর—এসব কারণে তেলের দামে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

দাম কিছুটা কমলেও সোনা তার 21 দিনের EMA-এর ওপরে রয়েছে, ফলে $3,430-এর রেজিস্ট্যান্স স্তর এখনো নজরে রয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির দর কমছে

ETF থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার উদ্বেগে মনোভাব চাপে পড়ায় Bitcoin (BTCUSD) চার সেশনে প্রথম দৈনিক লোকসান করেছে। শক্তিশালী USD-এর বিপরীতে Ethereum (ETHUSD) বিক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে; তবে ETF নিয়ে বাড়তি আগ্রহ এবং ETH স্টেকিংয়ের বিষয়ে US SEC-এর ইতিবাচক ইঙ্গিত সমর্থন জুগিয়েছে।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ ওঠানামা

  • তিন সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানের কিছুটা হারিয়ে WTI ক্রুড অয়েলের দামে সামান্য পতন হয়েছে। প্রেস টাইমে দাম $62.80-এর কাছাকাছি ছিল।
  • সোনার দামও তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পিছু হটে সর্বশেষ $3,355-এ নেমেছে।
  • 22 এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে USD Index। লেখার সময় এটি সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়ে 98.80-এর কাছাকাছি রয়েছে।
  • ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারের দর সামান্য বেড়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারের দরও কিছুটা বেড়েছে। এদিকে, দিনের শুরুর লেনদেনে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের শেয়ারবাজারে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
  • চার দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক লোকসান দেখিয়েছে BTCUSD, দাম রয়েছে প্রায় $105,000-এ। অন্যদিকে, ETHUSD-এর পক্ষে প্রায় $2,620-এ টানা দুই দিনের উত্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাঝারি পর্যায়ের ডেটা ও ঝুঁকির অনুঘটকগুলোর দিকে নজর, দিকনির্দেশনার অপেক্ষায়

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ড ও ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের Factory Orders, JOLTS Job Openings এবং ECB প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde-এর বক্তৃতা প্রকাশিত হবে। এসব ঘটনা বাজারের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট নাও করতে পারে, তবে এগুলো মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। এতে EURUSD চাপে পড়তে পারে, তবে নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদার কারণে USDCHF ও USDJPY-এর উত্থান সীমিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, বাণিজ্য আলোচনা, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া উত্তেজনা নিয়ে খবরের প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। চীনের সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য পদক্ষেপের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায়ও রয়েছে বাজার।

ডলারের সাম্প্রতিক শক্তি সত্ত্বেও, ট্রাম্পের আমলে করা বাণিজ্য চুক্তিতে ধীর অগ্রগতি এবং বাড়তে থাকা আর্থিক উদ্বেগ শিগগিরই USD-এর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক দরপতনের পরও এতে স্বর্ণ, JPY ও CHF-এর প্রতি বাজারের মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক রয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় অ্যাসেটগুলোর পূর্বাভাস

  • দাম বাড়ার সম্ভাবনা: USDCAD
  • আরও দরপতনের সম্ভাবনা: USDJPY, USDCHF
  • দর স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা: Nasdaq, DJI30, USDCNH, AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD, মার্কিন ডলার, BTCUSD, ETHUSD, অপরিশোধিত তেল
  • ধীরগতির & ক্রমশ পতনের আশঙ্কা: DAX, FTSE 100, EURUSD, ক্রুড অয়েল, GBPUSD

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!