বন্ডের বৈশিষ্ট্য বুঝতে হলে, এটি কীভাবে কাজ করে তা পরিষ্কার করা দরকার। কিছু নতুন ট্রেডার ভুল করে বন্ডকে শেয়ার মনে করেন। তবে বন্ড আলাদা, কারণ তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এগুলো শুধু কোম্পানিই নয়, সরকারও ইস্যু করতে পারে। কেউ বন্ড কিনলে তিনি ইস্যুকারীকে ঋণ দেন। অন্যদিকে, ঋণগ্রহীতা (কোনো কোম্পানি বা সরকার) নির্ধারিত তারিখে ঋণের অভিহিত মূল্য পরিশোধের দায়িত্ব নেয়। এছাড়া, বিনিয়োগকারী হিসেবে সেই তারিখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর সুদের অর্থ পেতে পারেন।

তাহলে, বন্ড কী? শেয়ারের মতো বন্ড বিনিয়োগকারীকে মালিকানার অংশ দেয় না। আপনি সরকারি অবকাঠামোর কোনো অংশের মালিক হতে পারবেন না। এর মানে, কোনো প্রতিষ্ঠানের আয় দ্রুত বাড়ছে নাকি কমছে, তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্ধারিত দিন এলে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ থাকবে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ডে ট্রেড করে বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও তৈরি করলে ট্রেডাররা বেশ কিছু সম্ভাব্য সুবিধা পেতে পারেন। প্রথমত, শেয়ারে ট্রেড করার সময় যে অস্থিরতা প্রায়ই প্রাধান্য পায়, বন্ড তা কমাতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এটি তুলনামূলক স্থিতিশীল আয়ের ধারা নিশ্চিত করে।
বন্ডের প্রধান ধরনগুলো নিয়ে আলোচনার আগে, এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য দেখে নেওয়া দরকার। এসব বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের বন্ড মূল্যায়ন করতে এবং পোর্টফোলিওর জন্য উপযুক্ত কি না তা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে:
বন্ডের ধরন নির্ধারণের পরের ধাপ হলো সেগুলোর প্রধান বিভাগগুলো দেখা।



ইস্যুকারী এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সব বন্ডকে চারটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়:
এবার বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ডের আরও কিছু ধরন দেখে নেওয়া যাক।
ধরে রাখা বন্ড হলো এমন একটি অ্যাসেট, যা আপনি কিনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধরে রাখেন। এ সময় আপনি সুদ পেতে থাকেন এবং মেয়াদপূর্তির অপেক্ষা করেন। মেয়াদপূর্তিতে ইস্যুকারী বন্ডের অভিহিত মূল্য ফেরত দেয়। অন্যভাবে বললে, আপনি শুধু বন্ডটি কিনে পরিশোধের দিন পর্যন্ত ধরে রাখেন।
ট্রেডিং বন্ড হলো কিছুটা ভিন্ন ধরনের অ্যাসেট, যা সেকেন্ডারি মার্কেটে কেনা বা বিক্রি করা যায়। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ড ইস্যু করার পর এর প্রাথমিক দাম বদলাতে পারে এবং শেয়ারের দামের মতো ওঠানামা করতে পারে। তাই আপনি এটি বিক্রি করে তাৎক্ষণিক আয় করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, দামের ওঠানামায় ইস্যুকারীর কাছ থেকে পাওয়া সুদের হার বা মেয়াদ শেষে পাওয়া অভিহিত মূল্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।
বন্ড কী এবং কীভাবে এটি ট্রেড করবেন? প্রথমে বন্ড মার্কেট কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তবে এই অ্যাসেটের কয়েকটি মৌলিক মানদণ্ড ও বৈশিষ্ট্য জানলেই হবে। পাশাপাশি, ইস্যুকারী সম্পর্কে গভীর বিশ্লেষণও সহায়ক হতে পারে। বন্ডের কয়েকটি মৌলিক পদ্ধতি ও ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে জানার পর আপনি একজন বিনিয়োগকারী হয়ে উঠতে পারেন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।