ডজনখানেক বেয়ারিশ রিভার্সাল প্যাটার্নের মধ্যে কোনটি ট্রেডিংয়ে ব্যবহার করবেন, তা বেছে নিতে গিয়ে নতুন ট্রেডাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। আপনার কাজ সহজ করতে, বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বাজারের বৈশিষ্ট্যসহ সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি বেয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নের তালিকা তৈরি করেছি।

আমাদের সেরা 3-এর তালিকায় যাওয়ার আগে, বিয়ারিশ রিভার্সাল প্যাটার্ন নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বিবেচনা করুন। প্রথমত, ভুল সংকেত এড়াতে প্রতিটি প্যাটার্নের নিশ্চিতকরণ দরকার। দ্বিতীয়ত, সবগুলোই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সময় গঠিত হতে হবে। সবশেষে, ট্রেডারদের টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের অন্যান্য দিক ও টুলের সঙ্গে মিলিয়ে এগুলো ব্যবহার করা উচিত।
বিদ্যমান আপট্রেন্ডে, অন্তত অল্প সময়ের জন্য, বেয়ারিশ রিভার্সাল দেখা যায় (আপট্রেন্ডটি বড় হওয়া জরুরি নয়)। এটি যদি গত কয়েক দিন ধরে চলে, তাহলে একে আপট্রেন্ড হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ডাউনট্রেন্ডের ক্ষেত্রে, বেয়ারিশ প্যাটার্নগুলো চলমান প্যাটার্নের মধ্যে বিক্রির চাপ নিশ্চিত করতে পারে।
আপট্রেন্ড নিশ্চিত করতে ট্রেডাররা কয়েকটি সহজ পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন। এর মধ্যে মুভিং অ্যাভারেজ ব্যবহার এবং ট্রফ ও পিক বিশ্লেষণ থাকতে পারে। কোনো সিকিউরিটিকে আপট্রেন্ডে আছে বলে বিবেচনা করা হলে, সাধারণত সেটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করে:
ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শনাক্ত করার কয়েকটি পদ্ধতি এগুলো। তবে আপনার পছন্দের ট্রেডিং কৌশল ও স্টাইল অনুযায়ী অন্যান্য মানদণ্ডও বিবেচনা করা যেতে পারে। এবার চলুন, শীর্ষ 3টি বিয়ারিশ রিভার্সাল প্যাটার্নের তালিকায় আসি।
প্যাটার্নটিতে নীল রঙের বডি থাকে এবং এর পরের ইন্টারভ্যালে ইনভার্টেড হ্যামার দেখা যায়। প্যাটার্নটির বডি ছোট এবং ওপরের উইক লম্বা। কেউ কেউ একে বুলিশ ইনভার্টেড হ্যামার মনে করতে পারেন। তবে প্যাটার্নটি আলাদা, কারণ আপট্রেন্ডের সময় এটি দেখা দিলে বেয়ারিশ রিভার্সালের সংকেত দেয়।
চার্টে কীভাবে শনাক্ত করবেন:
ব্যাখ্যা:
এই প্যাটার্ন সাধারণত বুলিশ আপট্রেন্ডের সময় দেখা যায় বলে এটি প্রায়ই ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলে। ক্রয়ের আগ্রহে র্যালি হলেও, সেই র্যালি ধরে রাখতে ক্রেতারা সফল হন না—বিশেষত যখন দিনের সর্বনিম্ন দামে বা তার কাছাকাছি ক্লোজ হয়।



এটির বডি নীল রঙের, আর ছোট লাল ক্যান্ডেলস্টিকটি নীল ক্যান্ডেলটির মধ্যে ঢাকা পড়ে।
চার্টে কীভাবে শনাক্ত করবেন:
ব্যাখ্যা:
প্রথম দিনে বড় নীল বডি নিয়ে দেখা দিলে, এটি বাজারের বুলিশ মনোভাবকে সমর্থন করতে পারে। তবে পরের দিন পরিস্থিতি বদলে যায়। সাধারণত দাম দিনের সর্বনিম্ন স্তরে ওপেন ও ক্লোজ হয়, ফলে ট্রেন্ড হঠাৎ দুর্বল হতে শুরু করলে বাজার যথেষ্ট শক্তিশালী কি না, তা নিয়ে বুলদের মনে সন্দেহ জাগে।
আগের দুটি বেয়ারিশ রিভার্সাল প্যাটার্নের বিপরীতে, এটি দ্বিতীয় দিনে দেখা যায় বড় লাল বডি হিসেবে। এই বডি আগের দিনের ছোট নীল বডিকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়, যা প্রথম দিনের ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। লাল বডিটি নীল বডিকে ঢেকে দিলেও, নিচের বা ওপরের শ্যাডো ঢেকে দেওয়া জরুরি নয়।
চার্টে কীভাবে শনাক্ত করবেন:
ব্যাখ্যা:
ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রথম দিনে নীল ক্যান্ডেল বডি দেখা গেলে কম ভলিউমে কেনার পজিশন শনাক্ত করা যায়। পরের দিন চার্টে বড় লাল বডি দেখা দিলে নতুন উচ্চতায় একটি গ্যাপ তৈরি হয়। এ পর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার গতি কমতে শুরু করে, ফলে দিনের বাকি সময়ে বিক্রেতারা বাজারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে। এটি প্রবণতা ঘুরে যাওয়ারও একটি সংকেত।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।