লগ আউট
Are you sure you want to exist?

লাভজনক স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশল

আপনি যদি বাড়তি আয়ের জন্য আর্থিক বাজারকে খণ্ডকালীন কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশল আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে হতে পারে। এই কৌশলের নামই এর বৈশিষ্ট্য বুঝিয়ে দেয়। এতে ট্রেডার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে দামের ছোট ওঠানামা থেকে লাভ করার চেষ্টা করেন।

None

এই অনুমাননির্ভর ট্রেডিং পদ্ধতি নতুন ও অভিজ্ঞ—দুই ধরনের ট্রেডারের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। এতে একই সময়ে একাধিক অ্যাসেটে ট্রেড করা যায়, ফলে আরও বেশি পজিশন খোলার সুযোগ থাকে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের তুলনায়, এখানে অতীতের ট্রেন্ডের গতিবিধি বুঝতে গভীর বিশ্লেষণের দরকার হয় না, তবে বাজার বিশ্লেষণ করা জরুরি।

স্বল্পমেয়াদি কৌশলগুলো প্রয়োগ করা সহজ মনে হলেও, নতুনদের জন্য এগুলো সুপারিশ করা হয় না। এগুলো কি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ? এর মূল ধারণাগুলো কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

স্বল্পমেয়াদি কৌশল কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

অ্যাকটিভ ট্রেডিং নামেও পরিচিত স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশলে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত পজিশন ধরে রাখা হয়। দামের ওঠানামার জন্য সপ্তাহ বা মাস অপেক্ষা করতে চান না—এমন ট্রেডারদের কাছে এটি আরও আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে এসেছে।

এই কৌশলগুলো কীভাবে কাজ করে তা সহজে বুঝতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে দেওয়া হলো:

  1. স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিংয়ে মূলত দামের গতিবিধির ওপর নজর দেওয়া হয়। অন্য কথায়, অতীতের ডেটা বা অন্য অ্যাসেটের মৌলিক বিষয়গুলো বিবেচনা করার তেমন প্রয়োজন হয় না। আর্থিক বাজারে দ্রুত দামের ওঠানামা থেকে লাভ করাই এর উদ্দেশ্য।
  2. এই পদ্ধতিতে বাজারের অস্থিরতা বুঝতে এবং দামের গতিবিধির পূর্বাভাস দিতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য, খবর বা ঘোষণার ওপর নজর রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঘটনা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কোম্পানির আয় ইত্যাদি খতিয়ে দেখতে হতে পারে।
  3. স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশল মূলত অনুমাননির্ভর ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অন্য কথায়, সব লেনদেন CFD-র মাধ্যমে করা হয়, অর্থাৎ অ্যাসেটটি বাস্তবে নিজের মালিকানায় রাখতে হয় না। আপনি ব্রোকারের কাছ থেকে এটি ধার করে সবচেয়ে লাভজনক দামে বিক্রি করতে পারেন এবং দামের পার্থক্য থেকে লাভ রাখতে পারেন।

এই বিশেষ ট্রেডিং পদ্ধতি থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে, উপযুক্ত বাজার পরিস্থিতি দেয় এমন একটি নির্ভরযোগ্য ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম খুঁজে নিতে হবে। এমন ব্রোকার বেছে নেওয়াই ভালো, যারা অ্যাসেটের বর্তমান বাজারমূল্যে ট্রেড করার সুযোগ দেয়। এতে সংকটের সময়েও লাভের সুযোগ থাকতে পারে এবং বাজারদর কমলে উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।

এবার স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশল শুরু করতে আপনার যে প্রধান উপকরণগুলো দরকার, সেগুলো নির্ধারণ করা যাক।

স্বল্পমেয়াদি কৌশলের সেরা পরামর্শ

এই পদ্ধতি আপনার জন্য উপযুক্ত বলে মনে হলে, আর্থিক বাজারে গভীরভাবে প্রবেশ করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করতে হবে:

  • স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারের কোন ধরনটি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা ঠিক করুন।
  • বিভিন্ন মার্কেট পর্যালোচনা করে আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটি বেছে নিন।
  • স্বল্পমেয়াদি কৌশলের ধরন বেছে নিন।
  • কোনো ঝুঁকি ছাড়াই বিনামূল্যে চেষ্টা করুন MTrading ডেমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।
  • কোন পদ্ধতিতে ভালো ফল পাবেন তা খুঁজে বের করুন এবং ট্রেডিং শুরু করতে একটি লাইভ অ্যাকাউন্ট খুলুন।
ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

উপরে উল্লেখ করা প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক।

স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারের ধরন

তাই, প্রথমে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ধরনের স্বল্পমেয়াদি ট্রেডার হতে চান। প্রধানত 3টি ধরন রয়েছে:

  • স্ক্যালপার – এ ধরনের ট্রেডাররা কম পরিমাণে, তবে ঘন ঘন মুনাফা করার লক্ষ্য রাখেন। তাঁরা দামের ছোটখাটো পরিবর্তনের দিকে নজর রাখেন এবং এমন পজিশন খোলেন, যা কয়েক মিনিটের বেশি (কখনও কখনও কয়েক সেকেন্ডের বেশি) খোলা থাকে না।
  • ডে ট্রেডার – এ ধরনের ট্রেডাররা সাধারণত এক দিনের জন্য পজিশন খোলেন। মূলত রাতভর পজিশন ধরে রাখার খরচ এড়াতে এবং দিনের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন হওয়া ট্রেড থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে তাঁরা অ্যাসেট ট্রেড করেন।
  • সুইং ট্রেডার – এ ধরনের ট্রেডাররা দামের বড় কোনো ওঠানামার মধ্যে অ্যাসেট ট্রেড করার সুযোগ খোঁজেন। তাঁদের পজিশন কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। তাঁরা ট্রেন্ড খুঁজে বের করে সামগ্রিক দামের গতির তুলনায় দাম বাড়া বা কমার সুযোগ থেকে লাভ করার চেষ্টা করেন।

মার্কেট পর্যালোচনা করুন

আপনি কোন ধরনের ট্রেডার, তা ঠিক করার পর ট্রেড করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অ্যাসেট বেছে নিতে হবে। এ জন্য আপনাকে বিভিন্ন মার্কেট খুঁজে দেখতে ও পর্যালোচনা করতে হবে। অন্য যেকোনো ধরনের ট্রেডিং কৌশলের ক্ষেত্রেও এই মার্কেটগুলো একই। আপনি কমোডিটি, কারেন্সি পেয়ার, শেয়ার ও স্টক, ফরেক্স, ইনডেক্স ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন।

স্বল্পমেয়াদি কৌশল ব্যবহার করে ট্রেড করার জন্য ফরেক্স সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেট। এর উচ্চ ভোলাটিলিটির জন্য এটি জনপ্রিয়। এ ছাড়া, সপ্তাহে 5 দিন, 24 ঘণ্টাই এখানে ট্রেড করা যায়।

কৌশলের ধরন নির্ধারণ করুন

মনে রাখবেন, ট্রেডিং কৌশল সাফল্যের কোনো জাদুকরী সূত্র নয়। এটি মূলত নির্দিষ্ট তথ্য ও মার্কেটের গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পদ্ধতি। উপযুক্ত কৌশল বেছে নিলে মার্কেটে প্রবেশের সেরা সময় নির্ধারণ করা যায়। কখন ট্রেড করবেন, সেটিও এই কৌশল থেকে জানা যায়।

স্বল্পমেয়াদি কৌশলের 4টি মৌলিক ধরন রয়েছে:

  • মোমেন্টাম ট্রেডিং – এই কৌশলে সাম্প্রতিক ট্রেন্ডের ভিত্তিতে অ্যাসেট বিক্রি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, গত কয়েক দিন ধরে দাম কমতে দেখলে, শর্ট ট্রেডাররা দাম আরও নামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
  • রেঞ্জ ট্রেডিং – এটি আরেকটি জনপ্রিয় স্বল্পমেয়াদি কৌশল। এতে ট্রেডার মুনাফার জন্য সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লাইন ব্যবহার করেন। সাধারণত, অ্যাসেটটি পরিচিত একটি লেভেলে অবস্থান করলে এবং পরে রেজিস্ট্যান্স লাইনে পৌঁছালে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডে প্রয়োগ করা হয়।
  • ব্রেকআউট ট্রেডিং – ধারণাটি খুবই সহজ: যত দ্রুত সম্ভব একটি ট্রেন্ডে ট্রেডে প্রবেশ করতে হবে। এরপর মার্কেট প্রাইস রেঞ্জের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
  • রিভার্সাল ট্রেডিং – এই কৌশলে আপনাকে ট্রেন্ডের গতিপথের পূর্বাভাস দিতে হবে এবং কখন এটি দিক পরিবর্তন করবে তা নির্ধারণ করতে হবে। দাম বাড়ুক বা কমুক—দুই ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগ করা যায়।

কোন ধরনের কৌশল আপনার জন্য উপযুক্ত, তা বুঝতে বিনামূল্যে একটি MTrading ডেমো অ্যাকাউন্ট খুলুন। এতে আপনি ঝুঁকি ছাড়া অনুশীলন করতে পারবেন। নিজের টাকা না হারিয়ে কাজ করে এমন একটি লাভজনক স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশল তৈরি করতে পারবেন।

আপনি যখন আসল আর্থিক বাজারে ট্রেড করার জন্য প্রস্তুত, তখন LIVE অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং সফল ট্রেডিং শুরু করুন।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।