
গত সপ্তাহে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দামে বড় পতনের পর সোমবারের শুরুতে বাজারের মনোভাব উন্নত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ঋণখেলাপির আশঙ্কা কমাতে আশাবাদী বলে মনে হচ্ছে। শুক্রবারের দুর্বল মার্কিন তথ্য এবং G7-এ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের মন্তব্যও এই মৃদু ইতিবাচক মনোভাবকে আরও জোরদার করতে পারে। তাঁদের মন্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সামনে বড় ধরনের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা এবং মার্কিন কূটনীতিকদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। তবে আগের সপ্তাহে কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের পর তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
মার্কিন ডলার মাসিক সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমেছে, আর গোল্ড দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত থেকে আরও বেশি তেল ছাড়ার আশঙ্কা এবং ব্যাংকিং সংকট ও চীনের দুর্বল ডেটার কারণে মন্দার আশঙ্কা সামনে আসায় অপরিশোধিত তেলের দাম চাপে রয়েছে।
প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে PBOC-এর নিষ্ক্রিয়তা এবং সামান্য ইতিবাচক মনোভাবের কারণে AUDUSD সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, EURUSD ও GBPUSD আগের সপ্তাহের বড় পতনের কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে, Ethereum-এর আপডেট নিয়ে আশাবাদ এবং US SEC-কে ঘিরে উদ্বেগ কমে আসায় BTCUSD ও ETHUSD দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থানের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



বুধবার জাপান সফরের আগে, এমনকি ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেও ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাস করাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্তুতির কারণে বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা কমেছে। নীতিগত আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি কর্মকর্তাদের মন্তব্য আশাবাদ আরও জোরালো করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক মিশ্র মন্তব্যের পাশাপাশি পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (PBOC) নিষ্ক্রিয়তাও বাজারে সতর্ক আশাবাদকে সমর্থন করেছে।
তবে কিছুই নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, যদিও সেগুলোর লক্ষ্য ডিফল্ট এড়ানো। এদিকে ফেডের hawkish নীতিনির্ধারকেরা “দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ সুদের হার” বজায় রাখার পক্ষে কথা বলছেন। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে বেইজিং গোপনে রাশিয়াকে সহায়তা করছে—পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অভিযোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা এখনও আলোচনায় রয়েছে।
ক্রিপ্টো নিয়ে বলতে গেলে, Ethereum-এর Cancun আপগ্রেড, বড় খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে US SEC-এর সীমিত সুবিধা থাকতে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং US Dollar-এর দরপতন BTCUSD ও ETHUSD-এর দাম বাড়াতে পারে।
সামনে সোমবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে থাকবে নিউইয়র্ক ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স, BoE-এর মুদ্রানীতি প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি, ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতির চূড়ান্ত পাঠ এবং ইউরোপীয় কমিশনের (EC) অর্থনৈতিক পূর্বাভাস। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মঙ্গলবার খেলাপি হওয়া এড়াতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের আলোচনা ও US Retail Sales, এবং শুক্রবার Fed চেয়ারম্যান Jerome Powell-এর বক্তব্য—স্পষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!