
শুক্রবারের শুরুর দিকে ট্রেডারদের মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি PMI-এর আশাব্যঞ্জক ফলাফল এবং ইসরায়েলকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ কমে আসা এতে ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের টেকসই পণ্যের অর্ডারের আগে প্রকাশিত দুর্বল পরিসংখ্যান এবং ফেড আর সুদের হার বাড়াবে না—এমন আলোচনা বাজারের সতর্ক আশাবাদকে সমর্থন করছে। ফলে US Dollar টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে দরপতনের দিকে এগোচ্ছে। তা সত্ত্বেও, নভেম্বরের US PMI প্রকাশের আগে বাজারের উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির আমেজ ডলারের দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডারদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
এতে EURUSD ও GBPUSD কিছুটা বাড়লেও USDJPY-এর টানা তিন দিনের উত্থান থেমেছে। এদিকে, তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট অয়েলের দৈনিক দর বেড়েছে, আর সোনার দাম আগের দিনের উত্থান ধরে রেখে দুই সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গড়ার দিকে এগোচ্ছে। লক্ষণীয়, USDCAD, AUDUSD ও USDCHF-এর দরে তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, G10 মুদ্রা পেয়ারগুলোর মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে NZDUSD সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে, থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের আগে ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক লেনদেন শেষে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে বাড়ছে। এদিকে, BTCUSD-এর পাঁচ সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে, তবে ETHUSD আগের সপ্তাহের দরপতন পুষিয়ে নিচ্ছে।
Black Friday-কে ঘিরে ট্রেডিং সময় কম থাকা এবং অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে ইভেন্ট কম থাকায়, বাজারে অংশগ্রহণ কম হতে পারে। এতে ট্রেডাররা সাপ্তাহিক প্রবণতা ধরে ট্রেড চালিয়ে যেতে পারেন।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে 4 দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়া এবং ইউরোজোন, UK ও জার্মানির সাম্প্রতিক কার্যকলাপের ডেটা শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদীরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছেন। তবে, US অর্থনীতিতে নরম অবতরণ (soft landing) নিয়ে বাড়তে থাকা আস্থা এবং চীনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ শুক্রবারের নিষ্প্রাণ বাজারে আশাবাদকে চাপে ফেলছে।
ইউরোপীয় ব্লকের অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র জার্মানির ইতিবাচক PMI-এর পর HCOB 2023 সালের চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য দেশটির অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। তবে নভেম্বর মাসে জার্মানির উৎপাদন, পরিষেবা ও কম্পোজিট PMI—সবকটিই পূর্বাভাস এবং আগের পাঠের চেয়ে ভালো এসেছে, যদিও 50.0 স্তরের নিচে রয়েছে। একইভাবে, নভেম্বরের ইউরোজোন PMI-এর প্রাথমিক পাঠ এবং যুক্তরাজ্যের কার্যকলাপের তথ্যও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এসেছে, তবে 50.0-এর নিচে রয়েছে। এতে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
এছাড়াও, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) নীতিনির্ধারক এবং বুন্ডেসব্যাংকের প্রধান ইয়োয়াখিম নাগেল বলেছেন, “সুদের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।” অন্যদিকে, ECB-এর গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পিয়েরে উয়ংশ আরও সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নাকচ করেছেন। উল্লেখ্য, ECB-এর সর্বশেষ মুদ্রানীতি বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, সব সদস্যই সুদের হার বর্তমান পর্যায়ে রাখার বিষয়ে একমত। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের PMI এবং শরৎকালীন বিবৃতি প্রকাশের সময় যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলরের মন্তব্যের পর ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের (BoE) সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা কমেছে।
অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রিয়েল এস্টেট খাতের চাপ কমাতে আরও ব্যাংককে উদ্যোগ নিতে বলছেন। তবে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ কিছুটা দুর্বল থাকায় আরও দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা এবং চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা “ড্রাগন নেশন” নিয়ে আশাবাদে চাপ সৃষ্টি করছে।
নভেম্বরের জন্য জার্মানির IFO সেন্টিমেন্ট ডেটা এবং যুক্তরাষ্ট্রের PMI ট্রেডারদের নজর কাড়বে। তবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেডিং সেশন সংক্ষিপ্ত থাকায় বাজারের গতি সীমিত হতে পারে, কারণ ওয়াল স্ট্রিট ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড মার্কেট আগেভাগে বন্ধ হবে। তাই সপ্তাহের শেষে বাজার ইতিবাচক অবস্থানে থাকতে পারে এবং ডলারের দর আরও নামতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!