
ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ সামান্য ইতিবাচক রয়েছে, কারণ আরও কিছু ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে US Federal Reserve সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমাতে পারে। চীনের সম্ভাব্য প্রণোদনা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আশাবাদ বেড়েছে। এসব কারণে US Dollar-এর ওপরও চাপ পড়ছে। তবে, Fed-এর সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে অনিশ্চয়তা বাজারের গতি আটকে রাখছে।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের গতিবিধি অনুসরণকারী US Dollar Index (DXY) গত তিন দিনে বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল, তবে এখন কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
ইউরো (EURUSD) বছরের সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। ইউরোজোন ও জার্মানিতে মূল্যস্ফীতির তথ্য অপরিবর্তিত থাকায় এটি লাভবান হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এবং Bank of England-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ পাউন্ড (GBPUSD) জুলাই 2023-এর পর সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। এ সময় এটি 10.5 মাসের রেজিস্ট্যান্স ট্রেন্ডলাইন ভেঙে ওপরে উঠেছে।
জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার (USDJPY) বন্ডের ফলন কমে যাওয়া এবং Bank of Japan সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUDUSD) টানা পঞ্চম দিনের মতো বেড়ে 5 সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, 2 মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও এবং নিউজিল্যান্ডের দুর্বল তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরও নিউজিল্যান্ড ডলার (NZDUSD) তার লাভ ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছে।
দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং তেলের দাম কমার মধ্যে কানাডিয়ান ডলার (USDCAD) টানা চতুর্থ দিনের মতো দরপতনের মুখে পড়ে আগের মাসিক সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দামে চাপ রয়েছে। টানা চার দিন ধরে এর দাম কমছে।
সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ $2,531-এ পৌঁছেছিল, তবে এরপর সামান্য কমেছে। বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন বলে এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে।
Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) মঙ্গলবার সামান্য দরপতন নিয়ে দিন শেষ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজার চাপে ছিল। তবে শক্তিশালী অন-চেইন ডেটা, ট্রান্সফার ভলিউম এবং প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহ ক্রেতাদের আশাবাদী রাখছে। ফলে বুধবারের শুরুতে দাম কিছুটা বেড়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ডেটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারের পরিস্থিতি শিথিল হচ্ছে। এর ফলে Federal Reserve সেপ্টেম্বর থেকে সুদের হার কমাতে পারে। New York Fed-এর ত্রৈমাসিক জরিপে 2014 সালের পর চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ দেখা গেছে। অন্যদিকে, Philly Fed-এর নন-ম্যানুফ্যাকচারিং কর্মসংস্থান সূচক মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
Governor Michelle Bowman-সহ Fed-এর কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোলে অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান এড়াতে ধীরে ধীরে সুদের হার কমানো উপযুক্ত হবে। সুদের হার কমানোর পক্ষে এই নরম অবস্থানের কারণে US Dollar দুর্বল হয়েছে।
এ ছাড়া, চীন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ইতিবাচক খবর US Dollar-এর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। অবিক্রীত বাড়ি কেনার জন্য স্থানীয় সরকারগুলোকে অর্থায়নের একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে চীন। ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে সময় লাগবে। তবে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের ওপর ইউরোপীয় শুল্কের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এর ফলে US Dollar Index (DXY) কমেছে। একই সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক এবং ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডও সামান্য কমেছে।
এর ফলে, জার্মানি ও ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতির ইঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় EURUSD ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সুদের হার কমানোর উদ্বেগও উপেক্ষা করে এটি বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, GBPUSD-এর ক্রেতারা ক্রমেই আশাবাদী হয়ে উঠছেন। নতুন সরকারের কারণে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আরও মসৃণ হবে—এমন আশায় তাঁরা দামকে 2023 সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তবে BoE-এর সুদের হার কমানো নিয়ে আলোচনা এবং 1.3050-55-এর আশপাশে শক্তিশালী টেকনিক্যাল রেজিস্ট্যান্স বুলদের চ্যালেঞ্জ করছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতার পাশাপাশি, BoJ আবার সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ বাড়ায় USDJPY বিক্রেতারাও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে, রয়টার্সের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, 57% অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বছর শেষ হওয়ার আগেই BOJ আবার সুদের হার বাড়াবে। একই প্রসঙ্গে, ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য এক প্রার্থী BOJ-এর সুদের হার বাড়ানো অব্যাহত রাখার পক্ষে।
ইতিবাচক বাজার মনোভাব, চীনের প্রণোদনা সংক্রান্ত খবর এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা থেকে AUDUSD সুবিধা পেলেও, জুলাইয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের হতাশাজনক তথ্যের পর NZDUSD কয়েক দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পিছিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, কানাডায় মূল্যস্ফীতি 40 মাসের সর্বনিম্নে নামার তথ্য এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও USDCAD তাতে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সাম্প্রতিক সুদের হার কমানোর পর ব্যাংক অব কানাডা (BoC) আরও কমাতে পারে—এমন ইঙ্গিতের পক্ষে প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন ট্রেডাররা।
তিন দিন ধরে দরপতনের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে এবং প্রতিবেদন লেখার সময়ও চাপের মুখে ছিল। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রি (API) সাপ্তাহিক তেলের মজুত কমবে বলে প্রত্যাশা থাকলেও উল্টো অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে। জ্বালানির চাহিদা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং সরবরাহে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয় এমন খবরের অনুপস্থিতিও জ্বালানির দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সম্প্রতি ঊর্ধ্বমুখী গতি না থাকলেও, সোনার ক্রেতারা রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। বাজারের অনিশ্চয়তার সঙ্গে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা যুক্ত হয়ে ট্রেডারদের প্রচলিত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।
ফেডের সর্বশেষ মুদ্রানীতি বৈঠকের কার্যবিবরণীর জন্য ট্রেডাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এতে সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে এবং মার্কিন ডলারের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
কার্যবিবরণীতে যদি কড়া মুদ্রানীতির ইঙ্গিত মেলে এবং মার্কিন ডলারের ঘুরে দাঁড়ানোকে সমর্থন করে, তাহলে ডলারের ঊর্ধ্বমুখী গতি সম্ভবত নির্ভর করবে জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেড চেয়ার পাওয়েলের বক্তব্য এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোর আগস্টের প্রাথমিক PMI পরিসংখ্যানের ওপর।
এ ছাড়া, উত্তর আমেরিকা সেশনে প্রকাশিত হতে যাওয়া জুলাইয়ের সংশোধিত ননফার্ম পেরোলস (NFP)-এর দিকেও ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হবে। কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় 1 মিলিয়ন কমিয়ে সংশোধন করা হলে, ফেডের কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে মার্কিন ডলারের ওপর নিম্নমুখী চাপ আরও বাড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!