
চীন থেকে আসা ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে ইতিবাচক খবর এবং ইল্ড কমে আসার মধ্যে BOJ-কে ঘিরে হওয়া লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার পথে রয়েছেন ট্রেডাররা। অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে কম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট এবং বছরশেষে বাজারের পজিশনিং ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে আরও জোরালো করতে পারে।
এর ফলে, আগের দিনের দরপতনের ধারা অব্যাহত রেখে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়েছে এবং প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলো তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে AUDUSD সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, তেলের দামের পতনে USDCAD সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যের দুর্বল জিডিপি এবং ব্রিটেনে চিকিৎসাকর্মীদের ধর্মঘট সত্ত্বেও GBPUSD উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে দৈনিক হিসাবে সবচেয়ে বড় দরবৃদ্ধির পর ব্রেন্ট তেলের দাম চাপে থাকলেও সোনার দাম সামান্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
মার্কিন ডলার দুর্বল হলেও BTCUSD ও ETHUSD-এর দিকনির্দেশ স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে, এই খাতের আরও একটি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে।



প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:
ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ট্রেডারদের পক্ষে
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চীনের স্টেট কাউন্সিল, সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পিপলস ব্যাংক অব চায়না (PBOC)—সবাই প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর নীতি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা কমেছে। দুর্বল ইল্ড এবং মিশ্র ডেটাও ডলারের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে; সাম্প্রতিক সময়ে এসব ডেটা ফেডের কড়া নীতির পক্ষের সদস্যদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
ফলে, USD দুর্বল হওয়ায় রাশিয়া ও ইউরোপকে ঘিরে মিশ্র খবর সত্ত্বেও প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ডের ইল্ড কমেছে, অন্যদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক ও পশ্চিমা বাজারের শেয়ারদর ইতিবাচক বলে মনে হচ্ছে। এতে স্বর্ণের বুলদের অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য হয়েছে। তবে USD দুর্বল হওয়া এবং তীব্র শীত ও ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশা—কোনোটিই অপরিশোধিত তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অন্যদিকে, বিটকয়েন মাইনিং কোম্পানি Core Scientific-এর দেউলিয়া হওয়ার আবেদন নিয়ে আলোচনা ক্রিপ্টো ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং Ripple, Twitter ও অন-চেইন মেট্রিক্স-সংক্রান্ত ইতিবাচক খবর থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন।
ধীরগতির সপ্তাহের আগে নজরে US GDP ও PCE-এর তথ্য
বিশ্বের বেশিরভাগ বাজার ইতিমধ্যেই ছুটির আমেজে ঢুকে পড়েছে। তবে 2022 সালে সম্ভাব্য নিষ্ক্রিয় সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগে শেষবারের মতো ট্রেডারদের নজর কাড়তে পারে US-এর তৃতীয় প্রান্তিকের GDP ও PCE-এর চূড়ান্ত তথ্য এবং ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতির সূচক। চীন ও রাশিয়ার খবরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এসব ঘটনার মধ্যে ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ঘুরে না দাঁড়ালে এবং/অথবা ফেড কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কড়া নীতির ইঙ্গিত না মিললে US ডলারের ওপর চাপ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!