
চীনের শক্তিশালী PMI এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল ডেটার বিপরীতে মার্চের শুরুতে বাজার কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে, টানা পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক উত্থানের পর মার্কিন ডলারের বুলরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। তাই কমোডিটি ও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলো তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেনের শেষভাগে দুর্বলতার কারণে শুরুতে দরপতন হলেও শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
দুই মাসের সর্বনিম্ন দর ছোঁয়ার পর টানা তৃতীয় দিনের মতো সোনার দাম বাড়ছে। অন্যদিকে, ব্রেন্ট তেলের দাম 1.0%-এর বেশি বেড়ে 17 ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
G10 মুদ্রা জোড়াগুলোর মধ্যে NZDUSD-কে সবচেয়ে বেশি লাভ করা জুটি বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বাড়ায় USDJPY সাধারণ প্রবণতার বিপরীতে চলছে।
এ ছাড়া, লেখার সময় BTCUSD ও ETHUSD তিন দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে এবং এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন করেছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ গতিবিধি:



বুধবার চীনের PMI-গুলো নতুন করে রিস্ক-অন মনোভাব তৈরি করলেও, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং Fed-এর সুদের হার বাড়ানোর আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনাও বাজারের মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। বেইজিং যখন সরকারি পদগুলোতে রদবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চাইছে এবং চীন-রাশিয়া সম্পর্কের সমালোচনা করছে। তাই বাজারের সাম্প্রতিক আশাবাদ টেকসই বলে মনে হচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনা সামনে আসতে শুরু করলে তা উল্টে যেতে পারে।
অন্যদিকে, US Consumer Confidence এবং উৎপাদন খাতের কার্যকলাপের ডেটায় সাম্প্রতিক দুর্বলতা কম নির্ভরযোগ্য বলেও মনে হচ্ছে, কারণ বেঞ্চমার্ক পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাছাড়া, US Treasury ইয়েল্ডের বৃদ্ধি এবং Fed funds futures-এ বাজারের বাজি ঝুঁকি নিতে আগ্রহীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সির সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। শিল্পখাতের খবর বলছে, ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে এবং ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ে কঠোর নিয়মকানুন নিয়ে আশঙ্কা কমছে।
সামনে, জার্মানির মুদ্রাস্ফীতির প্রাথমিক পরিসংখ্যান এবং ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপের তথ্য বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে চীনের তথ্য থেকে তৈরি সাম্প্রতিক আশাবাদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, কারণ দেশটির তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন আছে। পাশাপাশি, ঝুঁকির প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলা বিদ্যমান কারণগুলোরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!