
বুধবারের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল কর্মসংস্থান ও কার্যকলাপের ডেটার সঙ্গে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসায় বাজারে সতর্ক আশাবাদ দেখা গেছে। একই সঙ্গে বন্ডের ইল্ডের গতি কমে যাওয়ায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ পড়েছে এবং USD Index দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
দুর্বল মার্কিন ডলারের পাশাপাশি, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি RBNZ সুদের হার বাড়ানোয় USD-এর বিপরীতে প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে NZDUSD সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চীন ও হংকংয়ের অনুপস্থিতিও কিউই পেয়ারের ক্রেতাদের সহায়তা করতে পারে, কারণ এতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের জন্য ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কমে যায়।
এছাড়া, সোনার দাম নতুন বার্ষিক সর্বোচ্চে পৌঁছেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দামও ধীরে ধীরে বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে EURUSD ও GBPUSD-এর দুর্বল গতিবিধিও লক্ষ করার মতো।
বন্ডের দিকে বাজারের নজর থাকায় ইল্ড ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, আর শেয়ারবাজারে মিশ্র লেনদেন চলছে।
মার্কিন ডলারের সার্বিক দুর্বলতা এবং আরও তহবিল আসার আশার মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর দরও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



Fed-এর নীতিনির্ধারকেরা মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ সুদের হার বাড়ানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট—এ কথা বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, মে মাসে 0.25% সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও মার্কিন ডলারের বুলদের উৎসাহিত করতে পারেনি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল তথ্যের মধ্যে। রাশিয়া, চীন ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের অবস্থান বদলানোর উদ্যোগ নিচ্ছে—এমন আলোচনাও গ্রিনব্যাকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, RBNZ বাজারকে অবাক করে প্রত্যাশিত 0.25%-এর পরিবর্তে 0.50% সুদের হার বাড়িয়েছে, যা NZDUSD-কে এগিয়ে দিয়েছে। তবে USD দুর্বল হওয়া এবং RBA গভর্নর লোয়ের কড়া মন্তব্য সত্ত্বেও AUDUSD-তে উত্থান দেখা যায়নি, কারণ অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের দিনই সুদের হার বাড়ানোর ধারা স্থগিত করেছিল।
EURUSD ও GBPUSD সতর্কভাবে বুলিশ রয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সুদের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
এদিকে, সোনার দর শক্তিশালী রয়েছে এবং 2023 সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। USDCAD ও USDCHF চাপের মধ্যে থাকলেও তেলের দর ধীরে ধীরে বাড়ছে।
অন্যদিকে, Ethereum-এর hard fork-কে ঘিরে আরও অর্থপ্রবাহের আশায় ETHUSD 2022 সালের আগস্টের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। পাশাপাশি, US Dollar-এর প্রতি হতাশা এড়াতে ট্রেডাররা বিকল্প বিনিয়োগের মাধ্যম খুঁজছেন বলে BTCUSD-ও সামান্য লাভ দেখিয়েছে।
মার্কেটে এখন মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং হতাশাজনক মার্কিন ডেটাই মূল আলোচনায়। শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পূর্বাভাস যথাযথভাবে করতে ট্রেডারদের নির্ধারিত মার্কিন ডেটার দিকে নজর রাখা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ ডেটাগুলো প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে মার্কিন ডলার বহুপ্রতীক্ষিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!