
সপ্তাহের শুরুটা ইতিবাচক হলেও চীন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঝুঁকিবিরোধী শিরোনাম আসার পরও ঝুঁকিসম্পর্কিত সম্পদের বাজারের মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক ছিল। এর কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ছুটি এবং শুক্রবারের দুর্বল মার্কিন তথ্য। এসব তথ্য 2024 সালে ফেডের মাত্র একবার সুদের হার কমানোর আগের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে; এর আগে তিনবার কমানোর প্রত্যাশা ছিল।
এর ফলে, US Dollar Index (DXY) টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে, আর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে, জুনের পর সুদের হার কমানো অব্যাহত রাখতে European Central Bank (ECB)-এর অসুবিধা হতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকে EURUSD সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে, Bank of England (BoE)-এর কর্মকর্তাদের hawkish মন্তব্যে GBPUSD শক্তি পেয়েছে। এ ছাড়া, আগের দিন USDJPY-এর টানা তিন দিনের ধারার অবসান হয়েছে এবং এখন এটি চাপের মুখে রয়েছে। জাপানে মূল্যস্ফীতির জোরালো ইঙ্গিতের সঙ্গে Bank of Japan (BoJ)-এর সম্মেলন থেকে আসা মিশ্র শিরোনাম এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বিক্রি বাড়ায় AUDUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে। একই ধারায়, NZDUSD 10-সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে এবং প্রেস টাইমে টানা পাঁচ দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে চীনের প্রণোদনা সংক্রান্ত খবর এবং উচ্চ ঋণ-আয়ের অনুপাতযুক্ত ঋণ কমাতে Reserve Bank of New Zealand (RBNZ)-এর পদক্ষেপ।
চীনের জ্বালানির চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ক্রুড অয়েল শুক্রবারের পুনরুদ্ধার ধরে রেখেছে, যা কয়েক দিনের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে শুরু হয়েছিল। তবে লক্ষণীয়, গোল্ড প্রাইস টানা দুই সপ্তাহের বৃদ্ধির ধারা বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে, স্পট ETF অনুমোদন নিয়ে আরও ইতিবাচক খবরের অপেক্ষায় থাকা ট্রেডারদের মধ্যে BTCUSD ও ETHUSD সাম্প্রতিক বৃদ্ধির কিছুটা হারিয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



সোমবার US ও UK-তে ব্যাংক ছুটি এবং আগের দিনের হতাশাজনক US তথ্য Fed-এর একবার সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে এই ইঙ্গিত জোরালো হয়েছিল এবং US Dollar-কে শক্তি জুগিয়েছিল। একই সঙ্গে, চীনের আরও প্রণোদনার ইঙ্গিত থেকে আসা সতর্ক আশাবাদ এবং শেয়ারবাজারের ইতিবাচক পারফরম্যান্স US Dollar-এর ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। লক্ষণীয়, মঙ্গলবার বাজার পুরোপুরি চালু হওয়ার পরও Greenback-এর বুলিশ ট্রেডাররা উৎসাহ পাননি। ট্রেডাররা এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন—বিশেষ করে US Core PCE Price Index, যা Fed-এর পছন্দের মূল্যস্ফীতি-সূচক হিসেবেও পরিচিত।
US Dollar দুর্বল থাকায় সপ্তাহের শুরুতে Oil ইতিবাচকভাবে লেনদেন শুরু করেছে। তবে দিনের শুরুতে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা মিশ্র সংবাদে Gold-এর ঊর্ধ্বমুখী গতি নেই। এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সমালোচনা করেছে এবং বেইজিংয়ের ক্ষমতা খর্ব করতে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, রাফায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের পর এক মিশরীয় সেনা নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং সাংহাইয়ের আবাসন খাতকে সহায়তা করার পদক্ষেপ ঘোষণার খবর মঙ্গলবারের শুরুতে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব জুগিয়েছে।
ফলে, ঝুঁকির পরিমাপক হিসেবে পরিচিত AUDUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে। এ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার Retail Sales-এর আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি—আগের -0.4%-এর তুলনায় +0.1%। অন্যদিকে, bad loan কমাতে RBNZ-এর গুণগত পদক্ষেপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে NZDUSD-ও।
ECB-র বেশিরভাগ কর্মকর্তা জুনে সুদের হার কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এরপর জোটের মুদ্রানীতির পদক্ষেপ সম্পর্কে নতুন কোনো ইঙ্গিত দিতে দ্বিধা করেছেন। এতে EURUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়ে এক সপ্তাহের সর্বোচ্চে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ECB-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন এবং নীতিনির্ধারক ফ্রাঁসোয়া ভিলেরোয়া দ্য গালো। একইভাবে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ডেপুটি গভর্নর বেন ব্রডবেন্ট ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নীতির অবস্থান সমর্থনের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে, গ্রুপথিঙ্কের কারণে মুদ্রানীতি কমিটি খুব ধীরে কাজ করেছে—এমন দাবি তিনি নাকচ করেছেন। GBPUSD-কে কয়েক দিনের সর্বোচ্চে উঠতে সহায়তা করেছে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের (BRC) হালনাগাদ তথ্যও। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে দোকানের পণ্যের মূল্যস্ফীতি ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে’; মে মাসে বছরওয়ারি বৃদ্ধি ছিল 0.6%, যেখানে প্রত্যাশা ছিল 1.0% এবং আগের হার ছিল 0.8%।
BoJ-এর বেশির ভাগ কর্মকর্তা 2024 সালে আবার সুদের হার বাড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে বাজারের উদ্বেগের বিরোধিতা করায় USDJPY টানা দ্বিতীয় দিন চাপের মধ্যে রয়েছে। জাপানের Producer Price Index (PPI) 2015 সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ হওয়াও ইয়েন জোড়াটির বিক্রেতাদের সহায়তা করেছে। পাশাপাশি, বন্ডের ইল্ড কমা এবং জাপান স্থবির মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি (stagflation) কাটিয়ে উঠতে পারবে—এমন আস্থা বাড়ায় ইয়েন জোড়াটির ওপর নিম্নমুখী চাপ আরও বেড়েছে।
সপ্তাহের শুরুটা দুর্বল হওয়ার পর, মঙ্গলবার বাজারে বেশ সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেডাররা মিশ্র মনোভাব নিয়ে বাজারে ফিরবেন। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের Conference Board-এর (CB) ভোক্তা আস্থা ও আবাসন-সংক্রান্ত তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। নজরে রাখার মতো আরও তথ্যের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের Dallas Fed Manufacturing Business Index এবং কানাডার শিল্প উৎপাদন। পাশাপাশি, ECB ও ফেডের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, 2024 সালে Fed কতবার সুদের হার কমাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা মার্কিন ডলারের বুলদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে—যদি না আজকের মার্কিন ডেটা এবং FOMC কর্মকর্তাদের বক্তব্য বছরে মাত্র একবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে সমর্থন করে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের সাম্প্রতিক গতি বজায় থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!