
দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি না হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্যের উন্নতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাম্প্রতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার কমানো চালিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশায় বাজারের মনোভাব ইতিবাচক রয়েছে। এদিকে, ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকির জবাবে চীনের পদক্ষেপ, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক আইন নিয়ে উদ্বেগ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক বাজারের আশাবাদকে চ্যালেঞ্জ করছে।
এই পরিস্থিতিতে, আগের ক্ষতি পুষিয়ে US Dollar Index (DXY) বেড়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল GDP এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় AUDUSD তীব্রভাবে কমেছে। এদিকে, স্বর্ণ, Crude Oil এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা বাদে অধিকাংশ প্রধান মুদ্রার দর সামান্য বেড়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো JOLTS Job Openings তথ্য প্রকাশিত হলেও মঙ্গলবার মার্কিন ডলার দুর্বল অবস্থানে ছিল। সাম্প্রতিক বক্তব্যে নীতিনির্ধারকেরা সুদের হার কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্বিধা করলেও, ডিসেম্বর মাসে US Federal Reserve (Fed) সুদের হার কমাবে—এমন প্রত্যাশা বেড়েছে। ডলারের দুর্বলতা European Central Bank (ECB) কর্মকর্তাদের নরম অবস্থানের ইঙ্গিত এবং ফ্রান্সের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকেও ছাপিয়ে গেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হতে পারে। এতে EURUSD পেয়ার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। উল্লেখ্য, বুধবারের শুরুতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলেও প্রধান কারেন্সি পেয়ারটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ট্রেডাররা ECB, Fed এবং Bank of England (BoE)-এর নেতাদের বক্তব্যের অপেক্ষায় আছেন।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং BoE-এর সম্ভাব্য ডোভিশ অবস্থান সত্ত্বেও GBPUSD সাম্প্রতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে। ব্রিটিশ জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS) কর্মসংস্থানের হার বাড়িয়ে সংশোধন করেছে, তবে বেকারত্বের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। এর পর GBPUSD বেড়েছে। এদিকে, জাপানের PMI শক্তিশালী হওয়া এবং Nikkei 225 বাড়া সত্ত্বেও USDJPY সামান্য বেড়েছে—চার দিনের মধ্যে প্রথমবার।
AUDUSD চার মাসের সর্বনিম্নে নেমে উল্লেখযোগ্য মনোযোগ কেড়েছে এবং প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন হয়েছে। সতর্ক আশাবাদী বাজার মনোভাব এবং চীনের প্রণোদনা সংক্রান্ত খবর উপেক্ষা করেছে অস্ট্রেলিয়ান ডলার পেয়ারটি। এর কারণ, অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় প্রান্তিকের GDP প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং ট্রেজারার চ্যালমার্স একে ইতিবাচক, তবে দুর্বল বলে বর্ণনা করেছেন। এতে Reserve Bank of Australia-এর আরও সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বেড়েছে। একই সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধি ঝুঁকিসংবেদনশীল এই পেয়ারটির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
AUDUSD কমার পর NZDUSD-ও কমেছে। RBNZ গভর্নর অ্যাড্রিয়ান অরের ইতিবাচক মন্তব্য সত্ত্বেও চীন নিয়ে উদ্বেগই এর প্রধান কারণ। এদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম ঘুরে দাঁড়ানো এবং কানাডার আসন্ন কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের আগে USDCAD-এর টানা দুই দিনের উত্থান থেমেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের দরপতন এবং বুধবারের স্বল্পস্থায়ী উত্থান—কোনোটিই সোনার ক্রেতাদের থামাতে পারেনি। বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের আগে সতর্কতার কারণে ট্রেডাররা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজেছেন। বৃহস্পতিবার OPEC+ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে—এমন আশায় অপরিশোধিত তেলও API মজুতের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধিকে উপেক্ষা করেছে।
সম্ভাব্য ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির আগে বড় ক্রিপ্টো হোল্ডাররা আশাবাদী থাকায় Bitcoin (BTCUSD) এবং Ethereum (ETHUSD) আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন নিয়ে উদ্বেগ কমেছে।



সামনে Fed, ECB ও BoE-র প্রধানদের বক্তব্যের কারণে বাজারের অস্থিরতা বাড়তে পারে। নজরে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে রয়েছে US ADP Employment Change, ISM Services PMI এবং Factory Orders।
ফেডের সুদের হার-সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে, ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলের কড়া মন্তব্য মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করতে পারে—বিশেষ করে তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এলে। এতে প্রধান মুদ্রা, অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রা এবং কমোডিটির ওপর চাপ পড়তে পারে। তবে শুক্রবারের US NFP-এর আগে, চলমান ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যযুদ্ধ-সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যে ট্রেডাররা সতর্ক থাকায় সোনার দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে বা সামান্য কমতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!