লগ আউট
Are you sure you want to exist?

মিউচুয়াল ফান্ডে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন: সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

আপনি যদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন, তাহলে কোনো কোম্পানির ইস্যু করা বন্ড, শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটি কিনে আপনি আসলে কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের মালিক হন। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি সরাসরি কোনো কোম্পানির শেয়ারের মালিক হবেন। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারী হওয়ার অর্থ হলো, ফান্ডের সম্পদের লোকসান ও মুনাফা সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়। এ কারণেই এই ফান্ডগুলোকে “মিউচুয়াল” বলা হয়।

None

এই নিবন্ধে মিউচুয়াল ফান্ডে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, এর বিভিন্ন ধরন, আয় করার উপায়, সুবিধা ও অসুবিধা এবং বিনিয়োগকারীর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হবে।  

মিউচুয়াল ফান্ড কী?

এটি এমন একটি ফান্ড, যেখানে বিনিয়োগকারীদের বন্ড, শেয়ার এবং অন্যান্য ধরনের সিকিউরিটি বা আর্থিক সম্পদ কিনতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো একটি বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও তৈরি করা, যা একজন গড় বিনিয়োগকারীর তৈরি করা পোর্টফোলিওর চেয়ে ভালো। এ কারণে মিউচুয়াল ফান্ডে সাধারণত পেশাদার ফান্ড ম্যানেজাররা কাজ করেন, যাঁরা আপনার হয়ে সিকিউরিটি খুঁজে কিনে দেন—যদি না আপনার নিজের যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকে।

মিউচুয়াল ফান্ডের প্রচলিত ধরন

উদ্দেশ্যের ধরন অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ড সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় হতে পারে। তবে এগুলোর শ্রেণিবিভাগ আরও বিস্তৃত। অ্যাসেট ক্লাসের ওপর নির্ভর করে এগুলোকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রধান ধরনগুলো হলো:

  • স্টক/ইকুইটি ফান্ড। এগুলোতে সম্ভাব্য রিটার্ন বেশি হলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিও বেশি। আপনার মুনাফা বা লোকসান বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করবে। স্টক ফান্ডের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যেমন খাতভিত্তিক আয় ফান্ড বা গ্রোথ ফান্ড।
  • বন্ড ফান্ড। এসব ফান্ড থেকে নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায়, তাই এগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে বিনিয়োগের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি অ্যাসেট আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেন।
  • ব্যালান্সড ফান্ড। এসব ফান্ডে বিভিন্ন সিকিউরিটির সমন্বয় থাকে। এগুলো অ্যালোকেশন ফান্ড বা হাইব্রিড ফান্ড নামেও পরিচিত।
  • মানি মার্কেট ফান্ড। একদিকে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে কম। অন্যদিকে, এ ধরনের ফান্ডে রিটার্নও সবচেয়ে কম। এগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেশন ও সরকার ইস্যু করে এবং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে ভালো কাজ করে।
ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

মিউচুয়াল ফান্ড থেকে কীভাবে অর্থ উপার্জন করবেন

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে এর মূল্য বাড়ানো ও মুনাফা অর্জনের 3টি সম্ভাব্য উপায় রয়েছে। সেগুলো হলো:

  • লভ্যাংশ—এটি সুদের হার বা সিকিউরিটি থেকে পাওয়া অন্য কোনো ধরনের পেমেন্ট, যা আয়ের আনুপাতিক অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
  • মূলধনী মুনাফা—ধরা যাক, সিকিউরিটির দাম বেড়েছে এবং আপনি সেটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এতে আপনি যে আয় পাবেন, তা মূলধনী মুনাফা। সিকিউরিটির দাম কমলে সেটিকে মূলধনী ক্ষতি বলে গণ্য করা হয়।
  • নিট সম্পদমূল্য—প্রতি শেয়ারের দামই হলো নিট মূল্য। সিকিউরিটির মূল্য বাড়লে, এর ক্রয়মূল্যও বাড়ে, সেই সঙ্গে প্রতি সিকিউরিটির নিট মূল্যও বাড়ে।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধা

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন, নাকি অন্য কিছু চেষ্টা করবেন—এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সম্পদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও ব্যর্থতার তালিকাটি দেখুন।

সুবিধা:

  • পরিচালনা করা সহজ। আপনাকে শুধু ভালো রেকর্ড আছে এমন একটি মিউচুয়াল ফান্ড খুঁজে নিতে হবে।
  • সাশ্রয়ী। সাধারণত, ব্রোকাররা $500 থেকে $3,000 দামের মিউচুয়াল ফান্ড অফার করে।
  • তারল্য। অন্যান্য সম্পদের তুলনায় মিউচুয়াল ফান্ড কেনা বা বিক্রি করা অনেক সহজ বলে মনে হয়।
  • বৈচিত্র্যকরণ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যার ফলে মূল কোম্পানি কোনো কারণে ব্যর্থ হলে তহবিল পুনরায় বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়।

অসুবিধা:

  • ফি। ফান্ডের ধরন বা এর পারফরম্যান্স যা-ই হোক, ফি নেওয়া হবে।
  • সীমিত নিয়ন্ত্রণ। নিয়ন্ত্রণের অভাব নতুনদের জন্য বা যাদের যুক্ত হওয়ার সময় নেই, তাদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে পেশাদার বিনিয়োগকারীরা এটিকে অসুবিধা হিসেবেই দেখবেন।

সারসংক্ষেপ

পটভূমি বা আর্থিক অভিজ্ঞতা যা-ই হোক, বিনিয়োগকারীদের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড একটি সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় বলে মনে হয়। এগুলো পরিচালনা করা বেশ সহজ এবং অন্যান্য সম্পদের তুলনায় ঝুঁকিও কম। ফান্ডের ধরন ও পারফরম্যান্সের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ট্রেডাররা বিভিন্ন ধরনের ফান্ড বেছে নিতে পারেন। তবে নিয়ন্ত্রণের অভাবসহ কিছু ঝুঁকি মিউচুয়াল ফান্ডে থেকেই যায়। 

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।