এই নিবন্ধটি নতুন ট্রেডারদের জন্য। এতে পেন্ডিং অর্ডার ও মার্কেট অর্ডার কী, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং Buy Limit ও Buy Stop—এই দুটি টেকনিক্যাল কৌশলের মূল পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে পেশাদার ট্রেডাররা Buy অর্ডার বা Sell অর্ডার দেওয়ার জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি নতুন হলে, শুরুতে বিষয়টি কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে।
তবে, বিভিন্ন ধরনের অর্ডার সম্পর্কে আপনার ধারণা বাড়লে বুঝতে পারবেন, সেগুলো সম্পর্কে জানা কেন উপকারী। কারণ প্রতিটি অর্ডারে আলাদা নির্দেশনা থাকে, যা আপনার ব্রোকারকে ঠিক কী জানাতে চান তা স্পষ্ট করে। ফলে ব্রোকার সেই অনুযায়ী আপনার অর্ডার প্রস্তুত করতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
Stop Order ও Limit Order-কে ‘মৌলিক অর্ডারের ধরন’ বলা হয়। ফরেক্স ট্রেডিংয়ে এগুলো বেশ প্রচলিত। কখনও কখনও এগুলোকে ‘পেন্ডিং অর্ডার’ বলেও উল্লেখ করা হয়। যেকোনো আর্থিক বাজারেই আপনি পেন্ডিং অর্ডার ও মার্কেট অর্ডারের দেখা পাবেন।
মার্কেট অর্ডার হলো বাজারে পাওয়া সেরা দামে অর্ডার দেওয়া। পেশাদার ট্রেডাররা সাধারণত এই ধরনের অর্ডার পছন্দ করেন, যখন তারা জানেন কখন এবং কোন অ্যাসেটে ট্রেড করে বাজারে প্রবেশ করবেন, আর কোথায় ট্রেড থেকে বের হবেন।
পেন্ডিং অর্ডার হলো পেশাদার ট্রেডারদের দেওয়া এমন অর্ডার, যার মাধ্যমে তারা কোনো অ্যাসেট কিনতে বা বিক্রি করতে চান। দাম ট্রেডারের উপযুক্ত বলে মনে করা স্তরে পৌঁছালে অর্ডারটি কার্যকর হয়—অর্থাৎ, যখন সম্ভাব্য লাভের কারণে ট্রেডটি করা সার্থক বলে মনে হয়।
ট্রেডের ওপর নজর রাখার—অর্থাৎ, ট্রেডিং চার্ট পর্যবেক্ষণ করার—সময় না থাকলে পেন্ডিং অর্ডার বিশেষভাবে কাজে আসে। অথবা, আপনি চাইলে এন্ট্রি প্রাইস ঠিক করে পরে ট্রেডে ফিরে আসতে পারেন।



পেন্ডিং অর্ডার দুই ধরনের:
মূল বিষয়গুলো
স্টপ অর্ডার নামের মতোই কাজ করে। নির্দিষ্ট, আগে থেকে ঠিক করা একটি দামে (অর্থাৎ স্টপ পয়েন্টে) পৌঁছালে ট্রেডটি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এই অর্ডার দেওয়া হয়।
এই অর্ডার দিলে ট্রেডার আশা করেন, মুদ্রার দাম একই দিকে ক্রমাগত চলতে থাকবে।
আগেই আলোচনা করা হয়েছে, স্টপ অর্ডার এক ধরনের পেন্ডিং অর্ডার। তবে অর্ডারটি কার্যকর হলে এটি মার্কেট অর্ডারে পরিণত হয়।
ট্রেন্ডের দিক (বুলিশ বা বিয়ারিশ) অনুযায়ী, আপনি সেল স্টপ অর্ডার অথবা বাই স্টপ অর্ডার দিতে পারেন।
এ ছাড়া, আপনি যখনই বাই স্টপ অর্ডার দেন, একই সঙ্গে একটি সেল লিমিট অর্ডারও দেন। এর কারণ হলো, এতে আপনি ‘ফেরার উপায় নেই’—এমন একটি পয়েন্টও কভার করেন। এই পয়েন্ট পেরিয়ে গেলে আপনার ট্রেডে লোকসান শুরু হয় এবং লোকসান কমাতে ট্রেডটি বন্ধ হয়ে যায়।
লিমিট অর্ডার হলো এমন একটি অর্ডার, যেখানে আপনি অর্ডার কার্যকর করার জন্য সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করেন। অর্থাৎ, যে দামে আপনি পজিশন কিনতে বা বিক্রি করতে চান, সেই দাম ঠিক করে দেন।
সাধারণত, কারেন্সি পেয়ারের বর্তমান দামের ঠিক ওপরে বা নিচে লিমিট অর্ডার দেওয়া হয়—দাম কমার সময়ে বা বাড়ার সময়ে।
এ ছাড়া, এই অর্ডার দিলে ট্রেডার আশা করেন, দাম দিক পরিবর্তনের আগে অল্প সময়ের জন্য কমবে (অর্থাৎ, বুলিশ বা বিয়ারিশ ট্রেন্ড তৈরি হবে)।
আপনি কোন ধরনের ট্রেড করতে চান (কেনা বা বিক্রি), তার ওপর অর্ডারের নাম নির্ভর করে। তাই আপনি বাই লিমিট অর্ডার বা সেল লিমিট অর্ডার বেছে নেবেন। কার্যকর হলে অর্ডারটি মার্কেট অর্ডারে পরিণত হবে।
বাই স্টপ ও বাই লিমিট অর্ডার সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার হলে, কেন এগুলো MetaTrader 4 ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে দেখবেন না?
শুরু করতে আপনি একটি বিনামূল্যের ডেমো ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। সেখানে লাইভ ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে ট্রেড করার আগে অর্ডারগুলো পরীক্ষা করে এবং আপনার পছন্দের ট্রেডিং কৌশল অনুশীলন করে নিতে পারবেন।
ডেমো অ্যাকাউন্টে আপনার নিজের মূলধনের বদলে ভার্চুয়াল ফান্ড ব্যবহার করতে পারবেন। ভার্চুয়াল ট্রেডিং পরিবেশে লাইভ ফরেক্স মার্কেটের রিয়েল-টাইম ট্রেডিং তথ্যও পাবেন।
আপনার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপনারই। তাই লাইভ ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ডেমো ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে যত দিন প্রয়োজন অনুশীলন করতে পারবেন।
তাই আপনি যদি আগের কথাগুলো একবার ঝালিয়ে নিতে চান, অথবা এই অংশে আসতে আর্টিকেলের বেশিরভাগটাই এড়িয়ে এসে থাকেন, তাহলে সংক্ষেপে উত্তর হলো: এই দুই ধরনের স্টপের পার্থক্য হলো, ট্রেডার যখন আশা করেন যে দাম বিপরীত দিকে ঘুরে যাওয়ার আগে অল্প সময়ের জন্য কমবে, তখন বাই লিমিট অর্ডার সেট করা হয়, আর তাই দাম কোন দিকে যাচ্ছে—ঊর্ধ্বমুখী নাকি নিম্নমুখী—তার ওপর নির্ভর করে অর্ডারটি দামের ঠিক ওপরে বা ঠিক নিচে সেট করা হয়।
অন্যদিকে, ট্রেডার যে দামে মনে করেন ট্রেডটি থামবে, সেই দামে বাই স্টপ অর্ডার দেওয়া হয়। তাই ট্রেডার দামের সামান্য পতনের আশঙ্কা করেন না; বরং আশা করেন, দাম একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে থামবে।
এই পয়েন্টটি হলো মুদ্রার দাম সর্বনিম্ন যে দামে নামবে অথবা সর্বোচ্চ যে দামে উঠবে।
বাজারে সবচেয়ে প্রচলিত অর্ডারগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। পেন্ডিং অর্ডার ব্যবহার করার সময় মনে রাখবেন, পেন্ডিং অর্ডার দেওয়ার আগে বেশিরভাগ আর্থিক ব্রোকার আপনাকে বর্তমান বাজারদরে ন্যূনতম পরিমাণ পিপ কিনতে বলে।
MetaTrader 4-এর মতো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পেন্ডিং অর্ডার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং buy stop ও buy limit-এর পার্থক্য দেখিয়ে কাজটি অনেক সহজ করে দেয়। এর বিপরীতে, অনেক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে এই তথ্য দেখানো হয় না, কারণ তারা ধরে নেয় যে আপনি ইতিমধ্যেই এই দুই ধরনের অর্ডারের পার্থক্য জানেন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।