শুরু থেকেই নতুন ট্রেডারদের শেখানো হয়, বাজারের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে দুটি প্রধান ধরনের উৎস ব্যবহার করতে হয়। সেগুলো হলো টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস। আমরা জানি, প্রথমটি প্রাইস অ্যাকশন ব্যবহার করে সেরা ট্রেডিংয়ের সুযোগ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় ধরনটি (মৌলিক বিশ্লেষণ) কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির কার্যকারিতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র সম্পর্কে ধারণা দেয়। ভূরাজনৈতিক ও অন্যান্য বিষয়ের প্রভাবে অর্থনীতির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে এটি সাহায্য করে। পাশাপাশি, ট্রেডাররা কোন সম্পদের দাম বেশি বা কম নির্ধারিত হয়েছে, তা বুঝতে পারেন।
এই দুই প্রধান ধরনের বিশ্লেষণের কথা বলতে গিয়ে ট্রেডাররা প্রায়ই তৃতীয় ধরনটি—সেন্টিমেন্ট অ্যানালিসিস—ভুলে যান।
সেন্টিমেন্ট ইন্ডিকেটর কীভাবে কাজে লাগতে পারে এবং বিনিয়োগকারীরা এর থেকে কীভাবে উপকৃত হতে পারেন? জানতে পড়ুন আজকের নিবন্ধ।
নাম থেকেই বোঝা যায়, অ্যাসেট বা বাজারের দিক সম্পর্কে তথ্য পেতে বাজারের সেন্টিমেন্ট মূল্যায়নে এই বিশ্লেষণ কাজে লাগতে পারে। বাজারের অবস্থা ও অ্যাসেট সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য দেখা গেলে, সেটিকে লং পজিশনের সংকেত হিসেবে ধরা হয়। আর সেন্টিমেন্ট ইন্ডিকেটর থেকে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে শর্ট পজিশনের সংকেত দেখা যায়।
অবশ্য, সংগৃহীত তথ্য সব সময় সঠিক সংকেত দেয় না। এ ছাড়া, কোনো অ্যাসেটের দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন ভালো বা খারাপ আর্থিক খবরও ট্রেডারদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তারা যে তথ্য পান, তার ব্যাখ্যার ওপর ফলাফল নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে মার্কেট সেন্টিমেন্ট ইন্ডিকেটর সহায়ক হতে পারে।
এগুলো গ্রাফিক্যাল বা সংখ্যাভিত্তিক—যেকোনো ধরনের হতে পারে। এগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অনুভূতি তুলে ধরে। অন্য কথায়, নির্দিষ্ট অবস্থান ও বিশ্বাস কীভাবে অদূর ভবিষ্যতে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে, তা দেখার সুযোগ পাবেন আপনি।
এটি আপনি কোন অ্যাসেটে ট্রেড করছেন, তার ওপরও নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, স্টকের sentiment indicator ব্যবহার করলে আপনি ক্রেতা বা বিক্রেতাদের একটি গোষ্ঠী শনাক্ত করতে পারবেন। এর ফলে বাজারের বুলিশ বা বিয়ারিশ পরিস্থিতি অনুমান করা সম্ভব। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিয়ারিশ হলে দাম শিগগিরই বাড়তে শুরু করতে পারে, আর এর বিপরীতটিও ঘটতে পারে।



এটি একটি নির্দিষ্ট আর্থিক উপকরণের প্রতি মনোভাব দেখায়। প্রাইস মুভমেন্টের মাধ্যমে যে অনুভূতি বোঝা যায়, সেটিই সেন্টিমেন্ট। এ ছাড়া, যে সিকিউরিটিতে ট্রেড করা হচ্ছে তার বাজারের কার্যকলাপও বিবেচনা করা জরুরি:
আপনি কীভাবে সেগুলো পড়ছেন, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। রিডিং কম হলে বোঝায়, ভোক্তারা বাজার নিয়ে হতাশ ও নিরুৎসাহিত। অন্যদিকে, এর অর্থ শিগগিরই উন্নতি এবং দামের বিপরীতমুখী পরিবর্তনও হতে পারে।
উচ্চ রিডিং থেকে বোঝা যায়, ভোক্তারা ইতিবাচক ও আশাবাদী বোধ করছেন। একই সময়ে, অভিজ্ঞ ট্রেডারদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সূচকগুলো নিচে নামতে পারে বলে ধরে রাখা উচিত।
কিছু ইন্ডিকেটর সেন্টিমেন্ট এবং টেকনিক্যাল—দুই ধরনেরই হতে পারে। তবে, এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে:
সেন্টিমেন্ট ইন্ডিকেটর থেকে পাওয়া তথ্যের পরিমাণ সীমিত। ট্রেডারদের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সংকেত হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়। এ ছাড়া, দাম বা ট্রেন্ড ঠিক কখন পরিবর্তিত হবে, তা এগুলো কখনোই জানাতে পারে না। এগুলো শুধু ট্রেডার ও ভোক্তাদের বাজার সম্পর্কে ধারণা ও মনোভাবের তথ্য দেয়। বাজার বিশ্লেষণ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে, এগুলো টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর দামের ট্রেন্ড নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।