লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading • আজ

অস্থির বাজারে ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে পতনের ধাক্কা সামলাচ্ছে অপরিশোধিত তেল; নজর US ডেটা ও API-র মজুদের দিকে

অস্থির বাজারে ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে পতনের ধাক্কা সামলাচ্ছে অপরিশোধিত তেল; নজর US ডেটা ও API-র মজুদের দিকে

আগের দিন আশাবাদীরা আবার বাজারে ফিরলেও, সামগ্রিক ঝুঁকির পরিস্থিতি এখনও বেশ অনিশ্চিত। গতির অভাবের পেছনে এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ঘটনার আগে সতর্ক মনোভাব, পাশাপাশি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সংশয় থাকতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক আশাবাদ এবং ইয়েল্ডের ধীরে ধীরে বৃদ্ধি ঝুঁকিপূর্ণ মুদ্রাগুলোকে আগের ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিতে সাহায্য করছে, একই সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত সম্পদগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

এর ফলে, সোমবার টানা দুই দিনের ঊর্ধ্বগতির ইতি ঘটানোর পর US Dollar Index (DXY) 104.30-এর কাছাকাছি ওঠানামা করছে। তবে, সপ্তাহের শুরুতে EURUSD ও GBPUSD-এর যে পুনরুদ্ধার হয়েছিল, তা উল্টে গেছে। অন্যদিকে, USDJPY টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতনের মুখে পড়েছে।

দেশের ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্যের পরও AUDUSD তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। টানা চার দিন দরপতনের মধ্যে NZDUSD-ও মে মাসের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে, কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েল এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে টানা তিন দিনের দরপতন থামালেও USDCAD পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে, টানা পাঁচ দিনের পতনের মধ্যে সোনার দাম নিচু স্তরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের কারণে হলুদ ধাতুটির নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি, সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের পর আগের লাভের কিছুটা সমন্বয় করছেন ট্রেডাররা। উল্লেখ্য, চীনের সংকটও সোনার দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (23 জুলাই, 2024) থেকে ট্রেডিং শুরু করার জন্য US Securities & Exchange Commission (SEC) প্রথম স্পট Ether (ETH) ETF অনুমোদন করলেও, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো তেমন গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আগের আশাবাদে নতুন করে চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়ায় মার্কিন ডলারের দুর্বলতা সত্ত্বেও BTCUSD ও ETHUSD বাড়তে পারেনি।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:

  • WTI ক্রুড অয়েল ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমে টানা তৃতীয় দিনের পতনের পথে। প্রকাশের সময়ে দাম $78.40-এর কাছাকাছি, সামান্য ঊর্ধ্বমুখী।
  • স্বর্ণর দাম সর্বশেষে প্রায় $2,391-এ সামান্য কমলেও টানা পঞ্চম দিনের মতো নেমেছে।
  • USD Index লেখার সময় 104.30-এর কাছাকাছি স্থির রয়েছে এবং সপ্তাহের শুরুতে হওয়া লোকসান পুষিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
  • ওয়াল স্ট্রিট দরপতন নিয়ে বন্ধ হয়েছে, আর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারের দাম সামান্য কমেছে। এছাড়া, প্রাথমিক ট্রেডিং ঘণ্টায় ব্রিটেন এবং ইউরোপ-এর শেয়ারবাজারে সামান্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।
  • BTCUSD এবং ETHUSD আগের দিন বিক্রেতাদের চাপে পড়ার পরও চাপে রয়েছে। সর্বশেষে এগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে $66,500 এবং $3,440।

মিশ্র অনুঘটকে ডলারের ওঠানামা সীমিত, তথ্য প্রকাশের আগে উদ্বেগ…

বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ধীরে ধীরে বাড়লেও, আগের দিন প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো শুক্রবারের বড় ধরনের দরপতন পুষিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের হালকা সূচির সঙ্গে এটিও ওয়াল স্ট্রিটকে ইতিবাচক অবস্থানে লেনদেন শেষ করতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ও সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত সম্পদের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক দিক থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানো এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে সেই জায়গায় ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের আসার সম্ভাবনা অনিশ্চয়তা কমিয়েছে এবং আশাবাদ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। তবে, বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকা এবং নির্বাচনী আবহের মুখোমুখি হতে এখনও প্রায় 3.5 মাস বাকি থাকায়, এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকগুলোর আগে বাজারের ইতিবাচক গতি কিছুটা কমেছে।

সোমবার, ECB নীতিনির্ধারক Peter Kažimír আরও সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে অন্য নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে EURUSD-এ ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর মধ্যেই প্রধান এই কারেন্সি পেয়ারটি এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ায় এবং টানা দুই দিনের দরপতন থামানোর চেষ্টা করে। উল্লেখ্য, সুদের হার কমানোর বিষয়ে Bundesbank-এর সতর্ক বিবেচনা কোটকে সহায়তা করে থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবারের শুরুতে ইউরো পেয়ারটি পিছু হটেছে। এর আগে জুলাইয়ের Consumer Confidence-এর প্রাথমিক পরিসংখ্যান, জুনের US Existing Home Sales এবং জুলাইয়ের Richmond Fed Manufacturing Index প্রকাশিত হবে।

একই ধারায় ছিল GBPUSD। মঙ্গলবারের শুরুতে সামান্য লোকসানের মুখে পড়ার আগে এটি টানা দুই দিনের দরপততি থামিয়েছিল। কেবল পেয়ারটির সাম্প্রতিক পতন বাজারের এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে যে, যুক্তরাজ্য সরকার অর্থনৈতিক উদ্বেগ সামাল দিতে এবং প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন সুদের হার কমাতে প্রস্তুত, তখন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) কড়া অবস্থানের পক্ষের সদস্যদের সমর্থন করতে পারবে কি না।

অন্যদিকে, USDJPY অর্ধ শতাংশ কমেছে এবং শুক্রবারের পতনও অব্যাহত রেখেছে। সাত মাস ধরে থাকা একটি সাপোর্ট রেজিস্ট্যান্সে পরিণত হওয়ার পর সেখান থেকে এটি নেমেছে। ইয়েন পেয়ারটির সাম্প্রতিক পতনের পেছনে তেমন কোনো অনুঘটক না থাকলেও, জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (LDP) মহাসচিব তোশিমিৎসু মোতেগির মন্তব্য দামে চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) নীতি আরও স্পষ্ট করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া, ফেডের সুদের হার কমানোর বিষয়ে উদ্বেগ বাড়লেও BoJ যে তাদের কড়া নীতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে, এ নিয়ে বাজারে আলোচনা পেয়ারটির বিক্রেতাদের আশাবাদী করে রেখেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ANZ-Roy Morgan Consumer Confidence-এর সাপ্তাহিক সূচক ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে এবং এপ্রিল 2021-এর পর সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখিয়েছে। তবে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসছে—এমন উদ্বেগের মধ্যে AUDUSD ও NZDUSD এই ইতিবাচক তথ্যকে স্বাগত জানায়নি। একইভাবে, তারা People’s Bank of China (PBoC)-এর সুদের হার কমানোর বিষয়টিও উপেক্ষা করেছে। অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও নিউজিল্যান্ড ডলারের পেয়ার কেনার ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা হলো Reserve Bank of Australia (RBA) এবং Reserve Bank of New Zealand (RBNZ)-এর সুদের হার কমানোর আলোচনা।

শুধু AUDUSD ও NZDUSD-ই নয়, USDCAD-ও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং US ডলারের দরপতন থেকে লাভবান হতে পারেনি। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং এই সপ্তাহে Bank of Canada (BoC)-এর সুদের হার কমানোর জন্য বাজারের প্রস্তুতির মধ্যে এমনটা হয়েছে।

চীনের জ্বালানি খরচ কমে যাওয়ার আশঙ্কা—বড় ধরনের প্রণোদনা সত্ত্বেও—এবং রাশিয়া ও OPEC থেকে রপ্তানি বৃদ্ধি, দুটোই বিক্রেতাদের পক্ষে যাচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মে চাহিদা বেশি থাকার বিষয়টি সমর্থন করতে হিমশিম খাচ্ছে অপরিশোধিত তেল। টানা তিন দিন দরপতনের পর তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। এদিকে, 2025 সালে তেলের বাজারে উদ্বৃত্ত সরবরাহ দেখা যেতে পারে বলে Morgan Stanley-এর পূর্বাভাস এবং সাপ্তাহিক মজুত বাড়ার প্রত্যাশা—সাম্প্রতিক সংশোধনমূলক দরবৃদ্ধি সত্ত্বেও—তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিনিয়োগকারীদের ছুটে যাওয়ার প্রবণতা কমছে—এর চাপ সোনার ওপর পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা সোনার ক্রেতাদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। তবে ফেডের ডোভিশ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতর ডেটার প্রত্যাশার কারণে এই মূল্যবান ধাতুটি এখনও বুলদের নজরে রয়েছে।

  • জোরালোভাবে কিনুন: USDCAD, USDJPY, US Dollar, Silver
  • জোরালো বিক্রির সংকেত: AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD
  • কিনুন: BTCUSD, ETHUSD, Nasdaq, Gold, DJI30, USDCNH
  • বিক্রি করুন: DAX, FTSE 100, EURUSD, অপরিশোধিত তেল
ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

ইউরোজোনের ভোক্তা আস্থা, মাঝারি গুরুত্বের মার্কিন তথ্য ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের নজর কাড়বে…

অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে এখনও তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত না হলেও, জুলাই মাসের ভোক্তা আস্থার প্রাথমিক পরিসংখ্যান ইউরোজোনের স্বল্পমেয়াদি EURUSD মুভমেন্ট নির্ধারণে সহায়তা করবে। জুন মাসের যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির পরিসংখ্যান এবং জুলাই মাসের রিচমন্ড ফেড ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্সের দিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য প্রত্যাশিতভাবে দুর্বল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান প্রত্যাশিতভাবে ইতিবাচক হওয়ায়, ইউরো পেয়ারে পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানে কোনো অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক তথ্য এলে তা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করবে এবং প্রধান মুদ্রা ও ক্রুড অয়েল, সোনার মতো কমোডিটির ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করবে।

এ ছাড়া, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (API)-এর সাপ্তাহিক তেল মজুতের তথ্যও স্বর্ণের ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। গত কয়েক সপ্তাহে মজুত কমলেও জ্বালানি খাতের বিয়াররা এখন শক্তি দেখাচ্ছে।