
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক কোনো নেতিবাচক ফল ছাড়াই শেষ হয়। এরপর হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ট্রাম্প এবং NATO (North Atlantic Treaty Organization)-এর মহাসচিব মার্ক রুটের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত পরবর্তী আলোচনা চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং NATO-র অনুচ্ছেদ 5-এ থাকা সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সামগ্রিকভাবে, ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি চুক্তি নিয়ে বাজারের মনোভাব সতর্ক আশাবাদী রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন দখল করা ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। এর জবাবে হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বেশির ভাগ দায়িত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেবে, আর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আশ্বাস দেবে এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও কোনো নিশ্চিতকরণ নেই। একইভাবে, বৃহত্তর কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় পরিসরে অস্ত্র কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি জানিয়েছেন—তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের কোনো অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। NATO-র মহাসচিব রুটে ওয়াশিংটনে দিনটিকে সফল বলেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইউক্রেন নিয়ে আলোচনাকে সিদ্ধান্তমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন মিত্রদের ঐক্য এবং ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তার নিশ্চয়তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
Trump বলেছেন, “আমরা US, Ukraine ও Russia-কে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির চেষ্টা করব,” এবং যোগ করেছেন যে তাঁর লক্ষ্য যুদ্ধ থামানো, দীর্ঘায়িত করা নয়। অন্য প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, Hamas ধ্বংস হওয়ার পরই বাকি জিম্মিরা ফিরবেন। এতে আরও সংঘাতের আশঙ্কা আবারও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio Fox News-কে বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ও ইউরোপের বাইরের—উভয় ধরনের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে।
ক্রেমলিনও নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপে ইউক্রেন এবং চলমান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্রেডিট রেটিং সংস্থা Standard & Poor’s (S&P) যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং AA+/A-1+ বহাল রেখেছে এবং দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল রেখেছে। সংস্থাটি ঘাটতি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা উল্লেখ করেছে। S&P আরও পূর্বাভাস দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) প্রবৃদ্ধি 2025 সালে কমে 1.7 শতাংশ এবং 2026 সালে 1.6 শতাংশ হবে, এরপর তা বেড়ে 2.0 শতাংশে পৌঁছাবে।
দেশীয় বাজারে National Association of Home Builders (NAHB) Housing Market Index 34 থেকে কমে 32 হয়েছে। 2012 সালের পর এটি তৃতীয় সর্বনিম্ন স্তরের সমান—এর আগে এমনটা দেখা গিয়েছিল শুধু 2020 সালের এপ্রিল ও 2022 সালের ডিসেম্বরে।
জাপানে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ন্যায্য শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী (2022–2024) এবং জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (LDP) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তারো কোনো ব্যাংক অব জাপানকে (BOJ) আগেভাগে সুদের হার বাড়ানো শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি
অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েস্টপ্যাক-মেলবোর্ন ইনস্টিটিউটের কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স 5.7 শতাংশ বেড়ে 98.5 হয়েছে—সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, এবং ইতিবাচক অঞ্চলের কাছাকাছি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, হারিকেন এরিন বাহামার পূর্বদিকে উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার US Dollar Index (DXY) ঘুরে দাঁড়ালেও মঙ্গলবার অস্থির ছিল। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বার্ষিক Jackson Hole Symposium-এর আগে বাজারে সতর্ক মনোভাব রয়েছে, যা বাজারের গতিকে সীমিত করছে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক তথ্যের মিশ্র ইঙ্গিতও এর সঙ্গে যোগ হয়েছে।
দিনের শুরুতে সোনার দামে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেলেও স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। 11 সপ্তাহের সর্বনিম্ন দর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর ক্রুড অয়েলের সেই উত্থান ধরে রাখা যায়নি। লিভারেজ নেওয়া লং পজিশন ব্যাপকভাবে লিকুইডেট হওয়া এবং চলমান টেকনিক্যাল দুর্বলতার চাপে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে।
দুর্বল সোমবারের পর EURUSD ও GBPUSD ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হওয়ায় সোমবারের জোরালো উত্থানের পর USDJPY কিছুটা নেমেছে। এর পেছনে ছিল BOJ-এর সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা বৃদ্ধি। AUDUSD-তে চাপ অব্যাহত ছিল, আর প্রতিবেদন লেখার সময় USDCAD ও NZDUSD-তে মাঝারি উত্থান দেখা গেছে। এদিকে, ওয়াল স্ট্রিটের মিশ্র সেশনের পর এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজার সামান্য নিচে নেমেছে।



গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহের শুরুতে EURUSD ও GBPUSD-এর দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল, তবে মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়ায়। ইউক্রেন-রাশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ এবং Jackson Hole অনুষ্ঠান সামনে থাকায় মার্কিন ডলারের ক্রেতারা সাময়িক বিরতি নেন। ইউরোজোনের দুর্বল বাণিজ্য ভারসাম্য EURUSD-এর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারে। এদিকে, GBPUSD-তে প্রভাব ফেলার মতো বড় কোনো কারণ ছিল না। দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে ট্রেডাররা যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং Jackson Hole থেকে পাওয়া ইঙ্গিতের অপেক্ষায় ছিলেন।
সোমবার US Dollar-এর সামগ্রিক শক্তি USD/JPY-কে বাড়ালেও, সাপ্তাহিক পতনের পর মঙ্গলবার জুটিটি চাপের মুখে পড়ে। অধিকাংশ নীতিনির্ধারক তথ্যনির্ভর অবস্থানে থাকলেও, ট্রেডাররা 2025 সালে Bank of Japan (BoJ)-এর সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন। জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তারো কোনো-র মন্তব্যও সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে আহ্বানকে সমর্থন করেছে। একই সময়ে, জাপানের মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য এবং টোকিওর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা USDJPY বিক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর আগে—যেমন Federal Open Market Committee (FOMC) Minutes, Jackson Hole symposium এবং আগস্টের Purchasing Managers’ Index (PMI) প্রতিবেদন—অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন ব্যস্ততা নেই এবং বাজারের মনোভাবও সতর্ক। তাই ট্রেডাররা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
AUDUSD ও USDCAD মার্কিন ডলারের বিপরীতে দুর্বলতা দেখাচ্ছে, তবে বুধবারের RBNZ সুদের হার কমানোর প্রস্তুতির মধ্যে NZDUSD ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবু সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাব অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ডলারের ওপর চাপ তৈরি করছে। তা সত্ত্বেও, সাড়ে 3 বছরের মধ্যে ভোক্তা আস্থায় সবচেয়ে বড় উত্থানকে উপেক্ষা করেছে AUDUSD। অন্যদিকে, USDCAD-এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া—যা কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য—এবং আজকের কানাডার মূল্যস্ফীতির তথ্য ও এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার-প্রভাবক ঘটনাগুলোর আগে পজিশন নেওয়া ভূমিকা রাখতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং Bank of Canada (BoC)-এর ডোভিশ অবস্থান।
50 দিনের Exponential Moving Average (EMA)-এর সমর্থনে স্বর্ণের দামে সতর্ক গতি রয়েছে, যা আরও পতন সীমিত করছে। তবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে স্বর্ণের স্বাভাবিক আকর্ষণ দুর্বল। এর কারণ হতে পারে শক্তিশালী মার্কিন ডলার, ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ এবং চীন থেকে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রত্যাশা।
এদিকে, হারিকেন এরিন নিয়ে উদ্বেগ ক্রুড অয়েলের ক্রেতাদের সহায়তা করতে পারেনি। 2 জুনের পর সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অয়েলের দামে চাপ অব্যাহত রয়েছে। এর কারণ হতে পারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনা। ফলে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহঝুঁকি এবং 2025 সালে জ্বালানির চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে বলে OPEC-এর দৃঢ় অবস্থান—শুল্ক নিয়ে বাজারের উদ্বেগ এবং চীনে চাহিদা কমে যাওয়া সত্ত্বেও—ক্রুড অয়েলের দামকে প্রভাবিত করতে পারছে না।
প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয় অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও Bitcoin (BTC) এবং Ethereum (ETH) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতনের শিকার হয়েছে। লিভারেজড মার্কেটে লং পজিশনের ব্যাপক লিকুইডেশন এবং এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলোর আগে বাজারের সামগ্রিক সতর্কতা—দাম কমার পেছনে এই কারণগুলো রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। টেকনিক্যাল ব্রেকডাউনও BTCUSD ও ETHUSD-এর ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে রয়েছে কানাডার মূল্যস্ফীতির তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের পরিসংখ্যান এবং আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (API) সাপ্তাহিক অপরিশোধিত তেলের মজুতের তথ্য—যা ট্রেডারদের জন্য বাজারে নতুন গতি আনতে পারে। প্রি-মার্কেটে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকা Home Depot-এর আয় প্রতিবেদনও নজরে থাকবে। Dow Jones-এ কোম্পানিটির ওজন 8%, তাই এটি সামগ্রিক বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে প্রধান অনুঘটক হিসেবে রয়েছে Jackson Hole সিম্পোজিয়াম ঘিরে প্রত্যাশা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার অগ্রগতি। এর পর বুধবার প্রকাশিত হবে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (FOMC) কার্যবিবরণী, বৃহস্পতিবার প্রধান অর্থনীতিগুলোর আগস্টের পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্স (PMI) প্রতিবেদন এবং শুক্রবার বক্তব্য দেবেন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার Jerome Powell।
এই পরিস্থিতিতে বাজারের সতর্ক মনোভাব USD/JPY বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে, এমনকি মার্কিন ডলার শক্তিশালী থাকলেও। এর ফলে কমোডিটি ও প্রধান কারেন্সিগুলোর ওপর চাপ পড়তে পারে। অ্যান্টিপোডিয়ান পেয়ারগুলোর দুর্বলতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম আরও কমতে পারে, যা জুলাইয়ের শক্তিশালী লাভের পর পতনকে দীর্ঘায়িত করবে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!