ট্রেডাররা ক্ষতি কমানো বা এড়ানোর উপায় খুঁজতে থাকেন। এ ক্ষেত্রে স্টপ লস অর্ডারের মতো কৌশল কাজে আসতে পারে। অ্যাসেটের দাম আগে থেকে নির্ধারিত স্তরে পৌঁছালে, এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।

তবে, এ ধরনের কৌশলের কিছু স্পষ্ট অসুবিধা রয়েছে। এর চেয়েও বড় কথা, ভুলভাবে ব্যবহার করলে কখনো কখনো এগুলো আরও বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। ট্রেডারদের সব সময় বর্তমান মার্কেট প্রাইসের দিকে নজর রাখতে হয়। এ কারণে, ট্রেইলিং স্টপ লস কৌশলের মতো আরও কিছুটা নমনীয় টুল তাদের প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রেইলিং স্টপ লস অর্ডার হলো ডে ট্রেডিংয়ের এক ধরনের অর্ডার। এটি ট্রেড করা ইন্সট্রুমেন্টে একজন ট্রেডারের সর্বোচ্চ ক্ষতির শতাংশ বা পরিমাণ নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, আগে থেকে নির্ধারিত স্তরটি ট্রেডারের পক্ষে দাম বাড়লে বা কমলে, সেই অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। আর দাম ট্রেডারের বিপক্ষে গেলে, স্টপ প্রাইস স্থির থাকে এবং একই স্তরে বজায় থাকে।
অন্য কথায়, ট্রেইলিং স্টপ লস চলমান স্টপ প্রাইস নির্ধারণ করে, ফলে সিকিউরিটির দামে যা-ই ঘটুক, কৌশলটি আরও নমনীয় থাকে। এই অর্ডারের মাধ্যমে ট্রেডাররা মুনাফা ধরে রাখতে পারেন। পাশাপাশি, ডে ট্রেডিংয়ের সময় এটি ক্ষতি থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়।
এই কৌশলের আরেকটি সুবিধা হলো, ট্রেইলিং স্টপ লস অর্ডার ম্যানুয়ালি সেট করতে হয় না। সেটিংস পরিবর্তন করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কনফিগার করলে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।
ট্রেইলিং স্টপ লস সম্পর্কে যা জানা দরকার:



এবার, স্টপ লস অর্ডার কীভাবে কাজ করে তা দেখা যাক।
এই ধরনের অর্ডার দেওয়া কঠিন কিছু নয়। এটি প্রচলিত স্টপ লস কৌশল-এর মতোই কাজ করে। তবে, আপনি যে ধরনের ট্রেডে প্রবেশ করছেন তার ওপর এটি নির্ভর করবে। ট্রেডটি লং বা শর্ট—যেকোনো ধরনের হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, লং ট্রেড চলাকালে আপনার কাছে থাকা কোনো অ্যাসেট বিক্রি করলে, স্টপ প্রাইস এন্ট্রি পয়েন্ট-এর নিচে নির্ধারণ করতে হবে।
নিচে ট্রেইলিং স্টপ লসের উদাহরণটি দেখুন।
বাস্তব বাজার পরিস্থিতিতে এই কৌশল কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে, নিচের শর্তগুলোতে আপনি শেয়ারে ট্রেড করছেন—এমনটা ধরে নেওয়া যাক:
আগেই যেমন উল্লেখ করেছি, ট্রেইলিং স্টপ লস অর্ডারের মান পরিবর্তিত হতে থাকে। বাজারের দাম $10.97-এ উঠলে, স্টপের মান বদলে $10.77-এ উঠবে। অ্যাসেটের দাম আবার $10.90-এ নেমে এলে, স্টপের মান একই থাকবে। কিন্তু দাম আরও কমতে থাকলে এবং $10.76-এ পৌঁছালে, আপনার স্টপ লেভেল বদলে যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে মার্কেট অর্ডার কার্যকর হবে।
মনে রাখবেন, বাজারে সাময়িকভাবে দাম কমতে পারে। এমন হলে, কিছু ট্রেডার হঠাৎ করে স্টপ লেভেল বদলে ফেলেন। তবে, আপনাকে এটি অপরিবর্তিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায়, আপনার স্টপ লস প্রত্যাশার চেয়েও কম হতে পারে।
এই কৌশলের প্রধান অসুবিধা হলো, আপনি প্রত্যাশার চেয়ে আগেই ট্রেড থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া, অ্যাসেটের দাম সামান্য কমলেও এমনটা হতে পারে—যদিও দামটি খুব বেশি কমছে না বা দিক বদলাচ্ছে না। অর্থাৎ, স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এক্সিট অর্ডার কার্যকর হতে পারে। তাই, এমন দূরত্বে স্টপ লেভেল সেট করুন, যেখানে দাম পৌঁছানোর কথা নয়।
এখানে সফলতার চাবিকাঠি হলো, একটি নির্দিষ্ট ট্রেডের জন্য আপনি কতটা দামের ওঠানামার সুযোগ রাখবেন তা ঠিক করা। সেটি কি 10 সেন্ট হবে, নাকি 20 সেন্ট? যাই করুন না কেন, স্টপ প্রাইস সেট করার আগে অর্ডারটি বিশ্লেষণ করে ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।