লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল ডেটার মধ্যে AUDUSD-এর টানা তিন দিনের লাভের ধারা থেমেছে।

বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল ডেটার মধ্যে AUDUSD-এর টানা তিন দিনের লাভের ধারা থেমেছে।

এই সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ইভেন্টের আগে সতর্ক মনোভাব সর্বশেষ মার্কিন তথ্য থেকে তৈরি আশাবাদের বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে, ফলে বাজারের মনোভাব বিভক্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও চীনকে ঘিরে মিশ্র ভূরাজনৈতিক খবরও বাজারের গতি বাধাগ্রস্ত করছে।

এর ফলে, তিন সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের পর টানা তিন দিনের দরপততির ধারা ভেঙে দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসা US Dollar Index (DXY) ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ECB) বৃহস্পতিবারের মুদ্রানীতি বৈঠকের ঘোষণা এবং শুক্রবারের মার্কিন কর্মসংস্থানের ডেটার জন্য ট্রেডাররা প্রস্তুতি নেওয়ায় EURUSD দোলাচল করছে মার্চের শেষ দিকের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি। এ ছাড়া, ECB-র সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় ইউরোর ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে দাম বাড়াতে পারে—এমন মার্কিন ডেটার অভাব প্রধান মুদ্রাটিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে, GBPUSD তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিবেদন লেখার সময় পেয়ারটি 11 সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পিছিয়ে এসেছে। 2024 সালে ফেডের সুদের হার কমানো নিয়ে সংশয় থাকা সত্ত্বেও, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মিশ্র পরিসংখ্যানের পর, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক উদ্বেগ মার্কিন ডলারের সংশোধনমূলক উত্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

জাপানের Monetary Base দুর্বল হওয়ায় ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) মূল্যস্ফীতি নিয়ে আশাবাদ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে USDJPY দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বন্ড ইল্ডের দুর্বলতাও ইয়েন জোড়াটির সাম্প্রতিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে, কোম্পানির পরিচালন মুনাফা, সাপ্তাহিক ভোক্তা আস্থা এবং চলতি হিসাবের হতাশাজনক পরিসংখ্যানের চাপে রয়েছে AUDUSD। নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডের (RBNZ) কড়া অবস্থানকে আড়াল করায় NZDUSD-ও একই পথে চলছে। উল্লেখ্য, ক্রুড অয়েলের দুর্বল দাম এবং ব্যাংক অব কানাডা (BoC) সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশার কারণে USDCAD দ্বিগুণ চাপে পড়েছে।

মার্কেটের অংশগ্রহণকারীরা জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়া, সরবরাহ হ্রাসের পদক্ষেপ শিথিল হওয়া এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসার আশঙ্কা করায়, US Dollar দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। অন্যদিকে, দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়ার পরও সোনার দাম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। সুদের হার কমার আশাবাদের সঙ্গে চীনকে ঘিরে মিশ্র মনোভাব ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার টানাপোড়েন চলছে।

স্পট ETF অনুমোদনের ব্যাপারে আশাবাদ থাকলেও ETF চালুর সময়সীমা নিয়ে সংশয় এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বিরুদ্ধে US SEC-এর কঠোর অবস্থানের কারণে ক্রিপ্টো বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এদিকে, ETHUSD টানা তিন দিন ধরে লোকসানে রয়েছে, আর BTCUSD তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:

  • WTI ক্রুড অয়েল টানা পঞ্চম দিনের মতো দর হারিয়ে প্রকাশের সময় $73.30-এ নেমেছে, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
  • সোনা আগের দিনের লাভের কিছুটা হারিয়েছে এবং লেখার সময় প্রায় $2,345-এ সামান্য লোকসানে রয়েছে।
  • মার্কিন ডলার সূচক দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সর্বশেষে 104.10-এর কাছাকাছি দিনের প্রথম উত্থান দেখিয়েছে।
  • ওয়াল স্ট্রিট মিশ্র ফলাফল নিয়ে বন্ধ হয়েছে, তবে এশিয়া-প্যাসিফিক শেয়ারের দর কমেছে। তবে, প্রাথমিক ট্রেডিং ঘণ্টায় ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় শেয়ারের দরও নিম্নমুখী রয়েছে।
  • BTCUSD সামান্য বেড়ে প্রায় $68,900-এ রয়েছে। তবে ETHUSD লেখার সময় টানা তৃতীয় দিনের মতো চাপের মুখে থেকে $3,760-এ নেমেছে।
ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

তথ্য-উপাত্ত মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের আগে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে…

যুক্তরাষ্ট্রের ISM ম্যানুফ্যাকচারিং PMI তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমে আসার পাশাপাশি আটলান্টা ফেডের GDPNow মডেলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হতাশাজনক হওয়ায় সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন ডলার দুর্বল অবস্থানে ছিল। এর আগে প্রকাশিত দ্বিতীয় সারির তথ্যেও মূল্যস্ফীতির হতাশাজনক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে 2024 সালে বর্তমান সুদের হার ধরে রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও চীন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে না পারা এবং হামাসকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নিতে ইসরায়েলের অনীহা গ্রিনব্যাকের দরপতনে বাধা দিয়েছে।

অন্যদিকে, ECB বৈঠকের আগের বাজার-মনোভাব EURUSD-এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পক্ষে থাকা ট্রেডারদের চ্যালেঞ্জ করছে, যদিও জোটের অর্থনীতি নরমভাবে মন্দা এড়ানোর পথে—এমন সাম্প্রতিক খবর বেশ আশাব্যঞ্জক। এদিকে, Nigel Farage নির্বাচনী দৌড়ে নামার পর এবং কনজারভেটিভদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় GBPUSD-র ওপর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার চাপ রয়েছে। ব্রিটিশ অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়েও মিশ্র খবর পাউন্ডের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মার্কিন ডলারের দরপতনে USDJPY জুটির দর নেমেছে। BoJ গভর্নর কাজুও উয়েদার মন্তব্য জুটিটির বিক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দিনের শুরুতে BoJ গভর্নর উয়েদা বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোলে নীতিতে সমন্বয় করা হবে। তবে জাপানের সর্বশেষ তথ্য মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বর্তমান নীতি বজায় রাখার পক্ষে। ফলে ইয়েন জুটির দরে একটি নিম্নসীমা তৈরি হয়েছে।

বাজারের সতর্ক মনোভাব এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কারণে AUDUSD ও NZDUSD চাপের মুখে রয়েছে; এমনকি মার্কিন ডলারের দুর্বলতা অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রার বিক্রেতাদেরও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং BoC-এর ডোভিশ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ কানাডিয়ান ডলারের (CAD) ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অনিশ্চিত সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার আকর্ষণ অটুট রয়েছে, যদিও সম্প্রতি নিষ্প্রাণ বাজার পরিস্থিতি XAUUSD-এর ক্রেতাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

  • জোরালো কেনা: USDCAD, USDJPY, US Dollar, Silver
  • জোরালো বিক্রির সংকেত: AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD
  • কিনুন: BTCUSD, ETHUSD, Nasdaq, Gold, DJI30, USDCNH
  • বিক্রি করুন: DAX, FTSE 100, EURUSD, অপরিশোধিত তেল

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাক্টরি অর্ডার ও রাজনৈতিক খবর ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের ব্যস্ত রাখবে…

সপ্তাহের শুরুতে বাজারের ওঠানামা মঙ্গলবারের শুরুতেই কমে এলেও, US Factory Orders এবং দ্বিতীয় স্তরের আবাসন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে ট্রেডারদের গ্রিনব্যাকের পুনরুদ্ধার সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। ভারত, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আসা খবরগুলোর দিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া, ইউরোপ, কানাডা ও ভারতের এই সপ্তাহের মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে উদ্বেগ বাজারের গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে বাজারে কনসোলিডেশন হতে পারে বলে আশা করাই ভালো।

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!